০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্দেহের কারণে খুন হলেন আঙ্গুর মিয়া

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিজিবির সোর্স সন্দেহে যুবক আঙ্গুর মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। প্রকাশ্যে গলাকাটার আগাম হুমকি দিয়েই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

সোমবার রাতে নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় ৭ চোরাকারবারির নামে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন রাজাই সীমান্ত গ্রামের আকরাম হোসেন, জাকির হোসেন, মাফিক, হেলালসহ আরও কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত ভোরে রাজাই সীমান্ত গ্রামের আঙ্গুর মিয়াকে স্থানীয় মাদক ও বিড়ি চোরাকারবারিরা বিজিবির সোর্স সন্দেহে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানান, শনিবার রাতে বিজিবির একটি টহল দল তাদের বাড়ির উঠান থেকে ভারতীয় বিড়ির চালান জব্দ করে ক্যাম্পে ফিরে যায়। এরপর কয়েকজন চোরাকারবারি তাদের বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেয় এবং আঙ্গুর মিয়ার গতিবিধি নজরদারি করতে থাকে।

তিনি আরও জানান, রাত ৩টার দিকে আঙ্গুর মিয়া তাদের শনাক্ত করতে বের হলে আর বাড়ি ফেরেননি। এর আগে চোরাকারবারিরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিল যে, বিড়ির চালান ধরিয়ে দেওয়ার কারণে আঙ্গুর মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হবে।

রোববার সকালে রাজাই মিশন স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ আঙ্গুর মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, নিহত ব্যক্তি বিজিবির সোর্স ছিলেন না। তবে সন্দেহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

পুলিশ জানায়, নিহতের গলা, হাত ও মুখমণ্ডলে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ১০:৫১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
৩৮ Time View

সন্দেহের কারণে খুন হলেন আঙ্গুর মিয়া

Update Time : ১০:৫১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিজিবির সোর্স সন্দেহে যুবক আঙ্গুর মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। প্রকাশ্যে গলাকাটার আগাম হুমকি দিয়েই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

সোমবার রাতে নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় ৭ চোরাকারবারির নামে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন রাজাই সীমান্ত গ্রামের আকরাম হোসেন, জাকির হোসেন, মাফিক, হেলালসহ আরও কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত ভোরে রাজাই সীমান্ত গ্রামের আঙ্গুর মিয়াকে স্থানীয় মাদক ও বিড়ি চোরাকারবারিরা বিজিবির সোর্স সন্দেহে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানান, শনিবার রাতে বিজিবির একটি টহল দল তাদের বাড়ির উঠান থেকে ভারতীয় বিড়ির চালান জব্দ করে ক্যাম্পে ফিরে যায়। এরপর কয়েকজন চোরাকারবারি তাদের বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেয় এবং আঙ্গুর মিয়ার গতিবিধি নজরদারি করতে থাকে।

তিনি আরও জানান, রাত ৩টার দিকে আঙ্গুর মিয়া তাদের শনাক্ত করতে বের হলে আর বাড়ি ফেরেননি। এর আগে চোরাকারবারিরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিল যে, বিড়ির চালান ধরিয়ে দেওয়ার কারণে আঙ্গুর মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হবে।

রোববার সকালে রাজাই মিশন স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ আঙ্গুর মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, নিহত ব্যক্তি বিজিবির সোর্স ছিলেন না। তবে সন্দেহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

পুলিশ জানায়, নিহতের গলা, হাত ও মুখমণ্ডলে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।