ভিনির জাদুতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল, ৩২ মাস পর মাঠে ফিরলেন নেইমার
বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা
বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে উঠেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। জোড়া গোল করে সেলেসাওদের জয়ের মূল নায়ক ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে এই ম্যাচের অন্যতম বড় চমক ছিল দীর্ঘ ৩২ মাস পর ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের মাঠে ফেরা।
একই গ্রুপ থেকে নিজেদের শেষ ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।
নকআউটে ব্রাজিল ও মরক্কোর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ
স্কটল্যান্ডকে হারানোর ফলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, হাইতির বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে মরক্কোর পয়েন্টও দাঁড়িয়েছে ৭। তবে ব্রাজিলের চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েই নকআউটে উঠেছে তারা।
- ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ: শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ব্রাজিল প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলকে।
- মরক্কোর প্রতিপক্ষ: ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে মরক্কো মুখোমুখি হবে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের।
‘এফ’ গ্রুপে থাকা দলগুলোর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়ার দৌড়ে টিকে আছে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। ফলে নকআউটে ব্রাজিল ও মরক্কোকে এই তিন দলের যেকোনো দুটির মুখোমুখি হতে হবে।
রক্ষণের ভুলে স্কটল্যান্ডের সর্বনাশ, ভিনির জোড়া গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটিশদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ব্রাজিল। মাত্র ৭ম মিনিটেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে দলকে লিড এনে দেন ভিনিসিয়ুস। স্কটিশ সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাককেনার পাস ব্লক করেন তরুণ উইঙ্গার রায়ান। সেই বল পেয়ে যান ভিনি, আর কোনো ভুল না করে দারুণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
২২ মিনিটে আরও একটি বল জালে জড়ান ভিনিসিয়ুস। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) তা বাতিল করে দেয়। স্কটিশ ডিফেন্ডার হেনড্রির কাছ থেকে বল কাড়ার সময় ভিনি তার ডান পায়ে সামান্য আঘাত করেছিলেন। স্কটিশ খেলোয়াড়দের আবেদনে ভিএআর চেক করে রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজান এবং গোলটি বাতিল করেন।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে ফের কাজে লাগান ভিনি। বল ক্লিয়ার করতে একাধিকবার ব্যর্থ হয় স্কটল্যান্ড। সেই সুযোগে ডান দিক থেকে আসা ব্রুনো গিমারেসের ক্রসে একেবারে ফাঁকায় দাঁড়ানো ভিনিসিয়ুস সহজ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এতে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
কুনহার গোল এবং নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে সেলেসাওরা। ৬১ মিনিটে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে স্কটল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ম্যাথিউস কুনহা। তার এই গোলেই ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ইনজুরির কারণে দীর্ঘ ৩২ মাস দলের বাইরে থাকা ব্রাজিলিয়ান পোস্টারবয় নেইমার। তিনি মাঠে নামার সময় গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের মাঝে তুমুল উত্তেজনা ও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্কটল্যান্ড ব্যবধান কমানোর বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারের জমাট দেয়াল টপকাতে পারেনি তারা। ফলে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।


























