০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতিমের মৃত্যু আমাদের বিবেকের কাছে এক কঠিন প্রশ্ন

— কায়েস আরজু | Bengal Eye News-এর বিশেষ কলাম

একটি শিশুর হাতে ছিল একটি মোবাইল ফোন। ছিল ছবি তোলার স্বপ্ন, ছিল সামনে পড়ে থাকা দীর্ঘ একটি জীবন। সেই শিশু আর ঘরে ফিরল না। মাত্র ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যু আজ শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়—এটি আমাদের পুরো সমাজের নিরাপত্তা, মানবিকতা ও বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর যখন সামনে আসে, তখন একজন শিল্পী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেই প্রশ্ন জাগে—আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাচ্ছি?

একজন মা তাঁর সন্তানকে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। সন্তান ফিরে আসবে—এটাই ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পরিণত হয়েছে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর বাস্তবতায়। অপ্রতিমের পরিবারের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, কোনো বিচারই হয়তো সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ হয় এবং আইনের প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সত্য সামনে আসে। শুধু গ্রেপ্তার হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ, কীভাবে অপরাধের পরিবেশ তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী করা প্রয়োজন—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।

অপ্রতিমের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

আজ একজন অপ্রতিম হারিয়েছে। আগামীকাল যেন আর কোনো মা তাঁর সন্তানকে বাইরে পাঠিয়ে আতঙ্কে অপেক্ষা না করেন—এই নিশ্চয়তা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

আমরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা চাই, সত্য উদঘাটিত হোক, আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিচার হোক এবং কোনো প্রভাব বা ক্ষমতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।

অপ্রতিমের চলে যাওয়া আমাদের জন্য শুধু শোকের সংবাদ হয়ে থাকুক—এটা আমরা চাই না।
তার মৃত্যু থেকে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ার শিক্ষা নিতে হবে।

অপ্রতিমের জন্য ন্যায়বিচার চাই।
প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৬:০০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪১০ Time View

অপ্রতিমের মৃত্যু আমাদের বিবেকের কাছে এক কঠিন প্রশ্ন

Update Time : ০৬:০০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

— কায়েস আরজু | Bengal Eye News-এর বিশেষ কলাম

একটি শিশুর হাতে ছিল একটি মোবাইল ফোন। ছিল ছবি তোলার স্বপ্ন, ছিল সামনে পড়ে থাকা দীর্ঘ একটি জীবন। সেই শিশু আর ঘরে ফিরল না। মাত্র ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যু আজ শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়—এটি আমাদের পুরো সমাজের নিরাপত্তা, মানবিকতা ও বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর যখন সামনে আসে, তখন একজন শিল্পী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেই প্রশ্ন জাগে—আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাচ্ছি?

একজন মা তাঁর সন্তানকে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। সন্তান ফিরে আসবে—এটাই ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পরিণত হয়েছে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর বাস্তবতায়। অপ্রতিমের পরিবারের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, কোনো বিচারই হয়তো সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ হয় এবং আইনের প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সত্য সামনে আসে। শুধু গ্রেপ্তার হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ, কীভাবে অপরাধের পরিবেশ তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী করা প্রয়োজন—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।

অপ্রতিমের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

আজ একজন অপ্রতিম হারিয়েছে। আগামীকাল যেন আর কোনো মা তাঁর সন্তানকে বাইরে পাঠিয়ে আতঙ্কে অপেক্ষা না করেন—এই নিশ্চয়তা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

আমরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা চাই, সত্য উদঘাটিত হোক, আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিচার হোক এবং কোনো প্রভাব বা ক্ষমতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।

অপ্রতিমের চলে যাওয়া আমাদের জন্য শুধু শোকের সংবাদ হয়ে থাকুক—এটা আমরা চাই না।
তার মৃত্যু থেকে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ার শিক্ষা নিতে হবে।

অপ্রতিমের জন্য ন্যায়বিচার চাই।
প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।