০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়নাতদন্তের জন্য সেলিম খান ও তার ছেলে শান্তর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | বিনোদন ও অপরাধ

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান ও প্রযোজক সেলিম খান এবং তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একনজরে আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
আদালতের নির্দেশকবর থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত
যাদের মরদেহইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও চিত্রনায়ক শান্ত খান
প্রশাসনিক পদক্ষেপনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির জন্য ডিসির কাছে আবেদন
মৃত্যুর তারিখ ও কারণ৫ আগস্ট, বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনি

মরদেহ উত্তোলনের আইনি প্রক্রিয়া

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর মরদেহ উত্তোলনের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি মিললেই নির্দিষ্ট সময়ে কবর থেকে বাবা-ছেলের লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং আইনি তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি ফয়েজ আহমেদ।

যেভাবে গণপিটুনিতে নিহত হন সেলিম-শান্ত

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেন সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত। পালানোর সময় বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজারে তারা প্রথমবারের মতো জনতার রোষানলে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে সেখান থেকে তারা কোনোমতে পার পেলেও পার্শ্ববর্তী বাঘড়া বাজারে গিয়ে চূড়ান্তভাবে আটকা পড়েন। সেখানেই বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে বাবা ও ছেলে উভয়ের মৃত্যু হয়।

বিতর্কিত অতীত ও অবৈধ বালু ব্যবসা

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে চাঁদপুরের নৌ-সীমানায় মেঘনা ও পদ্মা নদী থেকে শত শত ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মূল হোতা ছিলেন সেলিম খান। ‘বালুখেকো’ হিসেবে পরিচিত এই ইউপি চেয়ারম্যান এভাবেই রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হন। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১০:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৪ Time View

ময়নাতদন্তের জন্য সেলিম খান ও তার ছেলে শান্তর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের

Update Time : ১০:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | বিনোদন ও অপরাধ

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান ও প্রযোজক সেলিম খান এবং তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একনজরে আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
আদালতের নির্দেশকবর থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত
যাদের মরদেহইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও চিত্রনায়ক শান্ত খান
প্রশাসনিক পদক্ষেপনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির জন্য ডিসির কাছে আবেদন
মৃত্যুর তারিখ ও কারণ৫ আগস্ট, বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনি

মরদেহ উত্তোলনের আইনি প্রক্রিয়া

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর মরদেহ উত্তোলনের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি মিললেই নির্দিষ্ট সময়ে কবর থেকে বাবা-ছেলের লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং আইনি তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি ফয়েজ আহমেদ।

যেভাবে গণপিটুনিতে নিহত হন সেলিম-শান্ত

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেন সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত। পালানোর সময় বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজারে তারা প্রথমবারের মতো জনতার রোষানলে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে সেখান থেকে তারা কোনোমতে পার পেলেও পার্শ্ববর্তী বাঘড়া বাজারে গিয়ে চূড়ান্তভাবে আটকা পড়েন। সেখানেই বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে বাবা ও ছেলে উভয়ের মৃত্যু হয়।

বিতর্কিত অতীত ও অবৈধ বালু ব্যবসা

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে চাঁদপুরের নৌ-সীমানায় মেঘনা ও পদ্মা নদী থেকে শত শত ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মূল হোতা ছিলেন সেলিম খান। ‘বালুখেকো’ হিসেবে পরিচিত এই ইউপি চেয়ারম্যান এভাবেই রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হন। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলাও চলমান রয়েছে।