পার্কিংয়ের দাবিতে ঢামেক চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট: চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও স্বাস্থ্য
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল চত্বরে পার্কিংয়ের জায়গা বরাদ্দের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেকেই ভ্যান ও ট্রলিতে করে মুমূর্ষু রোগী এবং মরদেহ পরিবহন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
একনজরে ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট:
| বিবরণ | তথ্য |
| স্থান | ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল |
| ধর্মঘটকারী | বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি |
| মূল দাবি | হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ের জায়গা বরাদ্দ |
| শুরুর তারিখ | মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) থেকে অনির্দিষ্টকাল |
| ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স | প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি |
| বর্তমান পরিস্থিতি | ভ্যান ও ট্রলিতে রোগী ও মরদেহ পরিবহন করছেন স্বজনরা |
পার্কিং নিয়ে জটিলতা ও উচ্ছেদ
অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অভিযোগ, আগে ঢামেক হাসপাতালের ভেতরেই তাদের গাড়ি রাখার জায়গা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতাল চত্বর থেকে তাদের সব অ্যাম্বুলেন্স বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে তাদের দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করানো হয় এবং সেখানে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের নিজ খরচে সিসি ক্যামেরা, লাইট ও গেটও স্থাপন করা হয়। কিন্তু এরপর সেখান থেকেও তাদের গাড়িগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের মামলা ও মালিকদের ক্ষোভ
ঢামেক হাসপাতালের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সদস্য শাহাদাত হোসেন সাচ্চু জানান, ঢামেক এলাকায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকে। হাসপাতালের সীমানার ভেতরে গাড়ি রাখতে না দিলে তাদের বাধ্য হয়ে বাইরের রাস্তায় দাঁড়াতে হয়, আর তখন ট্রাফিক পুলিশ তাদের নামে মামলা দেয়। তিনি বলেন, “আমরা সব দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি, তাই বাধ্য হয়েই ধর্মঘটে যেতে হয়েছে।”
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন হাজারো মুমূর্ষু রোগী আনা-নেওয়ার জন্য সরকারি সেবার পাশাপাশি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ওপর নির্ভর করা ছাড়া সাধারণ মানুষের কোনো বিকল্প নেই। যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং যেমন হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে, তেমনি বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে ট্রাফিক পুলিশের হয়রানির মুখে ফেলাও যৌক্তিক সমাধান নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের এই টানাপড়েনের চরম মাশুল গুনছেন অসহায় সাধারণ মানুষ। ভ্যান বা ট্রলিতে করে খোলা রাস্তায় মরদেহ ও মুমূর্ষু রোগী বহনের দৃশ্য একটি সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ঢামেক কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট পার্কিং নীতিমালা বা বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে এই অমানবিক ভোগান্তির অবসান ঘটানো।


















