ইসরায়েল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহু ও বিরোধী জোটের সমানে-সমান অবস্থান
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতি
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে (নেসেট) ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে (Exit Poll) প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জরিপে বিরোধীরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, সংশোধিত ও সর্বশেষ জরিপগুলোতে দুই পক্ষের প্রায় সমান আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
একনজরে ইসরায়েল নির্বাচনের বুথফেরত জরিপ:
| জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা | নেতানিয়াহুর জোটের আসন | বিরোধী জোটের আসন (আইজেনকোট) |
| কান ১১ (Kan 11) | ৫৩টি | ৫৩টি |
| চ্যানেল ১৩ (Channel 13) | ৫৩টি | ৫৩টি |
| চ্যানেল ১২ (Channel 12) – সংশোধিত | ৫২টি | ৫০টি |
| সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার | ৬১টি আসন | ৬১টি আসন |
কাউকে ছাড় দিচ্ছে না কোনো পক্ষ
দেশটির কান ১১ ও চ্যানেল ১৩-এর সর্বশেষ বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার মিত্ররা এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট উভয় পক্ষই ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩টি করে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, চ্যানেল ১২ তাদের জরিপ সংশোধন করে জানিয়েছে যে, নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি এবং বিরোধী জোট ৫০টি আসন পেতে পারে।
ঝুলন্ত পার্লামেন্ট ও সরকার গঠনের সংকট
ইসরায়েলের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে (Knesset) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু বুথফেরত জরিপের এই সমীকরণ অনুযায়ী, কোনো পক্ষই এককভাবে ম্যাজিক ফিগার (৬১টি আসন) ছুঁতে পারছে না। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছোট ছোট দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের এক দীর্ঘ ও জটিল রাজনৈতিক দর-কষাকষির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বুথফেরত জরিপ কখনোই চূড়ান্ত ফল নয়; সম্পূর্ণ ভোট গণনা শেষ হলেই ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
ইসরায়েলের এই নির্বাচনটি মূলত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং গাজায় চলমান সংঘাতের ওপর এক ধরনের গণভোট। বুথফেরত জরিপ যদি সত্যি হয় এবং কোনো দলই যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে ইসরায়েল আরও একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ধাবিত হবে। নেতানিয়াহুর জন্য এটি যেমন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, তেমনি বিরোধীদের জন্য এটি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার মোক্ষম সুযোগ। তবে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ছোট উগ্র-ডানপন্থি বা কট্টর ধর্মীয় দলগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতিতে কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে তুলবে।


















