রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে ঐতিহাসিক মাইলফলক: প্রথম ইউনিটে শুরু হলো পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও জ্বালানি
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ধাপে ধাপে নানা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার পর চুল্লিতে সফলভাবে এই উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে এই উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
একনজরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সর্বশেষ অগ্রগতি:
| বিবরণ | তথ্য |
| প্রকল্পের নাম | রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র |
| পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু | ৩০ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল সাড়ে ৪টার পর (ইউনিট-১) |
| অনুমোদনকারী সংস্থা | বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) |
| বর্তমান কারিগরি পর্যায় | স্টেজ ‘বি টু’ (ক্রিটিক্যালিটি বা স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন) |
| বাণিজ্যিক সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা | ধাপে ধাপে ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে পৌঁছালে |
| ইউনিট-২ এর বর্তমান অবস্থা | পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়ার রোসাটম |
সাফল্যের সাথে ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ বা ক্রিটিক্যালিটি অর্জন
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার (IAEA) গাইডলাইন মেনে রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ (B-1) এরই মধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার যে জটিলতা ছিল, সেটিও সফলভাবে কেটে গেছে। এরপরই শুরু হয়েছে স্টেজ ‘বি টু’ (B-2), যেখানে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয় এবং ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করা হয়। এটি এমন একটি স্পর্শকাতর পর্যায়, যেখানে চুল্লিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয় এবং ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
কবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বিদ্যুৎ?
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক এই উৎপাদন ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে (National Grid) বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই এই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু
প্রথম ইউনিটের এই যুগান্তকারী সাফল্যের পাশাপাশি প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিট নিয়েও সুখবর এসেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম (Rosatom)।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক মাইলফলক। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা ও চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে রূপপুর থেকে পাওয়া ক্লিন ও বেইস-লোড (Base-load) বিদ্যুৎ দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে গেম চেঞ্জার হতে পারে। অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর ‘ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়টি সফলভাবে অতিক্রম করা প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার কারিগরি মান ও আমাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা (বায়েরা) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণে শতভাগ সক্ষম হয়েছে। এখন জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনগুলোকে এই বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।



















