দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের পথে বড় অগ্রগতি: চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই
ছবি: কাল্পনিক ছবি/সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও যোগাযোগ
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এবং প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প (এমআরটি লাইন-১) বাস্তবায়নের পথে বড় এক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনে প্রকল্পটির চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সঙ্গে দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
একনজরে এমআরটি লাইন-১ চুক্তি স্বাক্ষর ও প্যাকেজসমূহ:
| বিবরণ | তথ্য |
| প্রকল্পের নাম | এমআরটি লাইন-১ (দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল) |
| অর্থায়ন | বাংলাদেশ সরকার ও জাইকা (JICA) |
| চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান ও সময় | দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ভবন, ৪ নভেম্বর ২০২৬ (বিকেল) |
| চুক্তি হওয়া প্যাকেজের সংখ্যা | ৪টি (সিপি-০৪, সিপি-০৬, সিপি-০৯, সিপি-১০) |
| সিপি-০৪ (টানেল ও স্টেশন) | রামপুরা থেকে নতুন বাজার (৪.৪৪৭ কিলোমিটার পাতাল রুট) |
| সিপি-০৬ (টানেল ও স্টেশন) | নদ্দা থেকে এয়ারপোর্ট (৫.১৮২ কিলোমিটার পাতাল রুট) |
| সিপি-০৯ ও ১০ (কারিগরি) | ট্র্যাক, ইলেকট্রিক্যাল, সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন স্থাপন |
সময়মতো ও জনদুর্ভোগ কমিয়ে কাজ শেষের তাগিদ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। তিনি বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে, যাতে নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষের যে সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি হবে, তা দীর্ঘায়িত না হয়। একই সঙ্গে শ্রম আইন মেনে নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।
জাপানের প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন অংশীদারি
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের সাময়িক স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু ও গতিশীল করার উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপান ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
এমআরটি লাইন-৬ (উত্তরা-মতিঝিল) চালুর পর নগরবাসী যে মাত্রায় স্বস্তি পেয়েছে, এমআরটি লাইন-১ (পাতাল মেট্রোরেল) সেই স্বস্তিকে পুরো ঢাকা শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। তবে পাতাল রেলের নির্মাণকাজ মাটির ওপরের এলিভেটেড লাইনের চেয়েও বহুগুণ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। এয়ারপোর্ট থেকে রামপুরা পর্যন্ত এই ঘনবসতিপূর্ণ এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় টানেল ও স্টেশন নির্মাণের সময় নগরবাসীকে দীর্ঘমেয়াদি চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সড়ক পরিবহন সচিবের ‘নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা’ এবং ‘জনদুর্ভোগ কমানো’র নির্দেশ বাস্তবে তখনই প্রতিফলিত হবে, যখন ডিএমটিসিএল এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যাবে।









