রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত (পুরোনো ছবি)
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও শ্রম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একটি মহল অপচেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
একনজরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু:
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| অনুষ্ঠান | চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা |
| স্থান ও সময় | সচিবালয়, ঢাকা; ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) |
| প্রধান মন্তব্য | রাস্তার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই |
| সরকারের পদক্ষেপ | আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা, বন্ধ কারখানা শিগগিরই খোলা হবে |
| মজুরি বোর্ড | ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন |
আন্দোলন দমনে কঠোর নির্দেশনা
আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বন্ধ কারখানা শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। মালিক এবং শ্রমিকপক্ষ সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এখানে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি কোনো রকমের পোশাক কারখানা বন্ধ করার জন্য উসকানিমূলক কোনো কর্মকাণ্ড চালায়, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার তিনি জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে বিক্ষোভে সাধারণ শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই, বরং মুখোশধারী ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
প্রেক্ষাপট: কেন শ্রমিক অসন্তোষ
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
এর প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।
বেঙ্গল আই বিশ্লেষণ:
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন চলমান থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে ‘অশ্রমিক’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মিরপুর-১০ এ সড়ক অবরোধের মতো ঘটনায় জনদুর্ভোগ বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এখন দেখার বিষয়, মজুরি বোর্ড ও কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয়।







