সাভার-আশুলিয়ায় ফিরল স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ: কাজে যোগ দিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও শিল্পাঞ্চল
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েকদিনের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের পর সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে কর্মপরিবেশ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ (ডিইপিজেড) সব কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলজুড়ে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে জোরদার করা হয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা।
একনজরে শিল্পাঞ্চলের বর্তমান চিত্র ও মজুরি বোর্ড:
| বিবরণ | তথ্য |
| বর্তমান পরিস্থিতি | সব কারখানায় উৎপাদন শুরু, শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | বিজিবি টহল, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন |
| মজুরি বোর্ড গঠন | ১ নভেম্বর ২০২৬ (৬ সদস্যবিশিষ্ট) |
| নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ | ডিসেম্বরের মধ্যে (জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে) |
| সর্বশেষ মজুরি কাঠামো | ন্যূনতম সাড়ে ১২ হাজার টাকা (ডিসেম্বর ২০২৩ সালে নির্ধারিত) |
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে ফেরা ও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে ও কারখানার নিজস্ব পরিবহনে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে পৌঁছেছেন। কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের স্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। সাভারের হেমায়েতপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ কারখানাগুলোর সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান রয়েছে। শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিজিবির বিশেষ দলের নিয়মিত টহল ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মজুরি বোর্ড গঠন ও সংকটের সম্ভাব্য সমাধান
গত কয়েকদিন ধরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুর, সাভার ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১ নভেম্বর সরকার ৬ সদস্যের একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষই একমত হওয়ায় শ্রমিকরা পুনরায় কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। সব ঠিক থাকলে নতুন বছরের জানুয়ারিতেই বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
তৈরি পোশাক খাতের চলমান এই অসন্তোষ নিরসনে সরকার ও মালিকপক্ষের দ্রুততম সময়ে ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। মাত্র একদিন আগে (৩ নভেম্বর) আশুলিয়ায় তিন শ্রমিক নেতাকে আটকের ঘটনায় যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, মালিক-শ্রমিকের এই মতৈক্যের ফলে তা আপাতত প্রশমিত হলো। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাতকে সচল রাখতে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি শিল্পে স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাস্তায় শক্তি প্রদর্শনের বদলে আলোচনার টেবিলে ত্রিপক্ষীয় আস্থাশীল পরিবেশ বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এখন দেখার বিষয়, আগামী ডিসেম্বরে মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যৌক্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে কি না।









