০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সহশিল্পীকে মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ তিশার বিরুদ্ধে

তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ। ছবি: সংগৃহীত

সহশিল্পীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর নতুন নাটকের শুটিং সেটে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মানিকগঞ্জে চলমান ওই নাটকের শুটিংয়ের সময় অভিনেত্রী সামিয়া অথৈকে সজোরে চড় ও খামচি দিয়ে আহত করা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া অথৈ নিজেই এমন দাবি করেন।

নাটকটিতে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ ছাড়াও অভিনয় করছেন শহিদুজ্জামান সেলিম, মোমেনা ও মীর রাব্বী।

ঘটনার সূত্রপাত একটি উপহারকে কেন্দ্র করে বলে জানান অথৈ। তিশার নতুন সিনেমার খবরে আনন্দিত হয়ে ঢাকা থেকে একটি উপহার নিয়ে সেটে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তিশা সেটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ। এতে বিব্রত হয়ে বিষয়টি সেখানেই চুপচাপ শেষ করেন অথৈ।

কিন্তু মূল ঘটনা ঘটে ২ মার্চ, অথৈয়ের প্রথম দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়। তার দাবি, দৃশ্য ধারণ চলাকালে তানজিন তিশা স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে খামচি দেন। এতে তার হাতে চামড়া উঠে রক্ত বের হয়। ঘটনাটি ইউনিটের সবার সামনেই ঘটে বলে জানান তিনি।

অথৈ বলেন, অপমানজনক পরিস্থিতি ও শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিবাদ করেননি।

শুটিং মনিটরে বসে দৃশ্যটি দেখছিলেন শহিদুজ্জামান সেলিম ও পরিচালক রিংকু। এ সময় সেলিম বিস্ময় প্রকাশ করে অথৈয়ের কাছে জানতে চান, আগে থেকে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না। তখনই অথৈ অতীতের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

অথৈর দাবি, এর আগে অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজ করার সময় তানজিন তিশা তাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন। শুধু তাকেই নয়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলসহ আরও কয়েকজনকে ফারহানের সঙ্গে কাজ না করার পরামর্শ দেন তিশা। কারণ জানতে চাইলে তিশা নাকি বলেছিলেন, ফারহান তার ‘জামাই’। পরবর্তীতে বিষয়টি ফারহানকে জানিয়ে তার সঙ্গে আর কাজ করেননি বলে জানান অথৈ।

অথৈর অভিযোগ, পুরোনো সেই ক্ষোভ থেকেই দৃশ্য ধারণের সুযোগ নিয়ে তিশা তার ওপর শারীরিক আক্রমণ চালিয়েছেন।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘তিশার আত্মহত্যার চেষ্টা’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় গুঞ্জন ওঠে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থেকে ঘুমের ওষুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তবে পরে এসব দাবি অস্বীকার করেন তিশা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকর্মী তখন জানিয়েছিলেন, মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন তিশা। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০২:০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
৪৪ Time View

সহশিল্পীকে মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ তিশার বিরুদ্ধে

Update Time : ০২:০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

সহশিল্পীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর নতুন নাটকের শুটিং সেটে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মানিকগঞ্জে চলমান ওই নাটকের শুটিংয়ের সময় অভিনেত্রী সামিয়া অথৈকে সজোরে চড় ও খামচি দিয়ে আহত করা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া অথৈ নিজেই এমন দাবি করেন।

নাটকটিতে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ ছাড়াও অভিনয় করছেন শহিদুজ্জামান সেলিম, মোমেনা ও মীর রাব্বী।

ঘটনার সূত্রপাত একটি উপহারকে কেন্দ্র করে বলে জানান অথৈ। তিশার নতুন সিনেমার খবরে আনন্দিত হয়ে ঢাকা থেকে একটি উপহার নিয়ে সেটে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তিশা সেটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ। এতে বিব্রত হয়ে বিষয়টি সেখানেই চুপচাপ শেষ করেন অথৈ।

কিন্তু মূল ঘটনা ঘটে ২ মার্চ, অথৈয়ের প্রথম দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়। তার দাবি, দৃশ্য ধারণ চলাকালে তানজিন তিশা স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে খামচি দেন। এতে তার হাতে চামড়া উঠে রক্ত বের হয়। ঘটনাটি ইউনিটের সবার সামনেই ঘটে বলে জানান তিনি।

অথৈ বলেন, অপমানজনক পরিস্থিতি ও শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিবাদ করেননি।

শুটিং মনিটরে বসে দৃশ্যটি দেখছিলেন শহিদুজ্জামান সেলিম ও পরিচালক রিংকু। এ সময় সেলিম বিস্ময় প্রকাশ করে অথৈয়ের কাছে জানতে চান, আগে থেকে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না। তখনই অথৈ অতীতের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

অথৈর দাবি, এর আগে অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজ করার সময় তানজিন তিশা তাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন। শুধু তাকেই নয়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলসহ আরও কয়েকজনকে ফারহানের সঙ্গে কাজ না করার পরামর্শ দেন তিশা। কারণ জানতে চাইলে তিশা নাকি বলেছিলেন, ফারহান তার ‘জামাই’। পরবর্তীতে বিষয়টি ফারহানকে জানিয়ে তার সঙ্গে আর কাজ করেননি বলে জানান অথৈ।

অথৈর অভিযোগ, পুরোনো সেই ক্ষোভ থেকেই দৃশ্য ধারণের সুযোগ নিয়ে তিশা তার ওপর শারীরিক আক্রমণ চালিয়েছেন।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘তিশার আত্মহত্যার চেষ্টা’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় গুঞ্জন ওঠে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থেকে ঘুমের ওষুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তবে পরে এসব দাবি অস্বীকার করেন তিশা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকর্মী তখন জানিয়েছিলেন, মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন তিশা। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।