০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশ ও জাতির কল্যাণে নতুন সরকারপ্রধানের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড

দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে ফিরে এসে নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফিরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার ১৬ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বিশ্বখ্যাত নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উক্তির অনুপ্রেরণায় ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি নিজেকে সাধারণ নাগরিকের মতো উপস্থাপন করছেন। ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত, সহনশীল রাজনৈতিক আচরণ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাকে নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

তার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের মাধ্যমে দলটি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সরকারি প্রটোকলে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন। ভিভিআইপি সংস্কৃতি কমিয়ে সাধারণ নাগরিকের মতো চলাফেরা করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। আগে যেখানে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকত, বর্তমানে তা কমিয়ে চারটিতে নামানো হয়েছে।

সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়োজন ছাড়া সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেন। জনসভা কিংবা পথসভায় তিনি মঞ্চের পোডিয়ামে স্থির না থেকে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে ঘুরে ঘুরে বক্তব্য দেন এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

এছাড়া কৃষকদের সরকারি সেবা সহজ করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সম্মানী প্রদানের উদ্যোগও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল পুনঃখনন কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন সরকার প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে চেষ্টা করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ০২:২৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
২২ Time View

দেশ ও জাতির কল্যাণে নতুন সরকারপ্রধানের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড

Update Time : ০২:২৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর মাতৃভূমিতে ফিরে এসে নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফিরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার ১৬ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বিশ্বখ্যাত নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উক্তির অনুপ্রেরণায় ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি নিজেকে সাধারণ নাগরিকের মতো উপস্থাপন করছেন। ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত, সহনশীল রাজনৈতিক আচরণ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাকে নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

তার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের মাধ্যমে দলটি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সরকারি প্রটোকলে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন। ভিভিআইপি সংস্কৃতি কমিয়ে সাধারণ নাগরিকের মতো চলাফেরা করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। আগে যেখানে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকত, বর্তমানে তা কমিয়ে চারটিতে নামানো হয়েছে।

সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়োজন ছাড়া সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেন। জনসভা কিংবা পথসভায় তিনি মঞ্চের পোডিয়ামে স্থির না থেকে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে ঘুরে ঘুরে বক্তব্য দেন এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

এছাড়া কৃষকদের সরকারি সেবা সহজ করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সম্মানী প্রদানের উদ্যোগও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল পুনঃখনন কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন সরকার প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে চেষ্টা করছে।