০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগের দিন আগুনে পুড়ল ৯ ব্যবসায়ীর কপাল

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঈদের আগের দিন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে অন্তত অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে কচুয়া উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজের ওপারে মঘিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। অনেকের জীবনের শেষ সম্বল ছিল এসব দোকান।

পুড়ে যাওয়া একটি চায়ের দোকানের মালিক সোহাগ মাঝি জানান, এনজিও ঋণ ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে দোকানটি গড়ে তুলেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে নতুন মালামাল তোলা হয়েছিল, এমনকি দুটি ফ্রিজও কেনা হয়েছিল। কিন্তু আগুনে সব পুড়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন বা আবার ব্যবসা শুরু করবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

অন্যদিকে ‘মীম এন্ড মুন’ সারের ডিলার মাসুদুর রহমান জানান, তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান, লন্ড্রি, সেলুন ও চায়ের দোকানসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও আগুনে ধ্বংস হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ০১:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
৩১ Time View

ঈদের আগের দিন আগুনে পুড়ল ৯ ব্যবসায়ীর কপাল

Update Time : ০১:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঈদের আগের দিন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে অন্তত অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে কচুয়া উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজের ওপারে মঘিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। অনেকের জীবনের শেষ সম্বল ছিল এসব দোকান।

পুড়ে যাওয়া একটি চায়ের দোকানের মালিক সোহাগ মাঝি জানান, এনজিও ঋণ ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে দোকানটি গড়ে তুলেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে নতুন মালামাল তোলা হয়েছিল, এমনকি দুটি ফ্রিজও কেনা হয়েছিল। কিন্তু আগুনে সব পুড়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন বা আবার ব্যবসা শুরু করবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

অন্যদিকে ‘মীম এন্ড মুন’ সারের ডিলার মাসুদুর রহমান জানান, তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান, লন্ড্রি, সেলুন ও চায়ের দোকানসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও আগুনে ধ্বংস হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।