০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছোট্ট সন্তানের উদ্দেশে বাবার শেষ চিঠি

ন্তানের সঙ্গে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত কলকাতার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ছোট্ট সন্তানের উদ্দেশে যে চিঠিটি লিখেছিলেন, তা আজ শুধুই একটি লেখা নয়—একটি বাবার হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতির দলিল। শ্রীলেখা মিত্র–সহ অনেকেই এই চিঠি শেয়ার করেছেন, আর পড়তে গিয়ে ভিজেছে অগণিত মানুষের চোখ।

“তোমাকে কাছে পাওয়ার অজুহাত”

বাবা দিবস উপলক্ষে লেখা সেই চিঠিতে রাহুল লিখেছিলেন—
এই দিনগুলো উদযাপন করার অভ্যাস না থাকলেও, আসলে এটা শুধু ছেলেকে কাছে পাওয়ার একটা অজুহাত।

তিনি নিজের আর সন্তানের মায়ের শুরুর দিনের গল্প বলেন—
কীভাবে খুব অল্প বয়সে, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে, সংগ্রাম করে তাঁরা জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনয়ের জগতে।

সংগ্রামের গল্প, সন্তানের জন্য শিক্ষা

রাহুল লিখেছেন,
তুমি যদি কখনো এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করো, মনে রেখো—
তুমি “প্রিভিলেজড”, কারণ তোমার বাবা-মা সেই জায়গায় পৌঁছাতে অনেক অপমান, কষ্ট সহ্য করেছেন।

তিনি ছেলেকে শিখিয়েছেন—
প্রত্যেক মানুষকে সম্মান করতে
ক্ষমতা বা অর্থ দিয়ে মানুষ বিচার না করতে

তার ভাষায়—
“যে মানুষটি তোমাকে চা দিচ্ছেন, তিনি হয়তো তোমার বাবা-মাকেও ছোট দেখেছেন।”

বাবা হওয়ার আনন্দ

চিঠিতে উঠে এসেছে এক নিখাদ পারিবারিক ভালোবাসা—
যেদিন জানতে পারেন, তাঁদের সন্তান আসছে—তারা আনন্দে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন।

মায়ের ত্যাগের কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন—
কখনো বাজারের বেবিফুড নয়, সব নিজের হাতে বানানো
দিনের পর দিন সন্তানের জন্য নিরলস যত্ন

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা

সন্তানকে তিনি বিশেষভাবে বলেছিলেন—
মায়ের সংগ্রামকে বুঝতে, তার প্রতি সম্মান রাখতে।

“আমরা শুধু মায়ের বুকের উষ্ণতা অনুভব করি,
কিন্তু তার পিঠে গাঁথা কষ্টগুলো দেখি না।”

এই লাইনগুলোই সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে পাঠকদের।

উত্তরাধিকার হিসেবে যা দিয়ে গেলেন

চিঠির শেষে এক অসাধারণ উপহার—
রাহুল তাঁর সন্তানকে দিয়ে গেছেন ভাষা, সংস্কৃতি আর স্মৃতির উত্তরাধিকার।

নদী, পাহাড়, জঙ্গল
বইমেলার ধুলো
কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাত
আর সবচেয়ে বড়—বাংলা ভাষা

তিনি লিখেছেন—
“তোমাকে দিয়ে দিলাম আমার সবচেয়ে অহংকারের জিনিস—আমার ভাষা, বাংলা।”

শেষ কথা

এই চিঠি শুধু একজন অভিনেতার লেখা নয়—
এটি একজন বাবার ভালোবাসা, জীবনের শিক্ষা, আর সন্তানের প্রতি নীরব অঙ্গীকার।

এমন লেখা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার সম্পদ নয়,
ভালোবাসা, মূল্যবোধ আর ভাষা।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০১:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
১০২ Time View

ছোট্ট সন্তানের উদ্দেশে বাবার শেষ চিঠি

Update Time : ০১:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

প্রয়াত কলকাতার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ছোট্ট সন্তানের উদ্দেশে যে চিঠিটি লিখেছিলেন, তা আজ শুধুই একটি লেখা নয়—একটি বাবার হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতির দলিল। শ্রীলেখা মিত্র–সহ অনেকেই এই চিঠি শেয়ার করেছেন, আর পড়তে গিয়ে ভিজেছে অগণিত মানুষের চোখ।

“তোমাকে কাছে পাওয়ার অজুহাত”

বাবা দিবস উপলক্ষে লেখা সেই চিঠিতে রাহুল লিখেছিলেন—
এই দিনগুলো উদযাপন করার অভ্যাস না থাকলেও, আসলে এটা শুধু ছেলেকে কাছে পাওয়ার একটা অজুহাত।

তিনি নিজের আর সন্তানের মায়ের শুরুর দিনের গল্প বলেন—
কীভাবে খুব অল্প বয়সে, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে, সংগ্রাম করে তাঁরা জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনয়ের জগতে।

সংগ্রামের গল্প, সন্তানের জন্য শিক্ষা

রাহুল লিখেছেন,
তুমি যদি কখনো এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করো, মনে রেখো—
তুমি “প্রিভিলেজড”, কারণ তোমার বাবা-মা সেই জায়গায় পৌঁছাতে অনেক অপমান, কষ্ট সহ্য করেছেন।

তিনি ছেলেকে শিখিয়েছেন—
প্রত্যেক মানুষকে সম্মান করতে
ক্ষমতা বা অর্থ দিয়ে মানুষ বিচার না করতে

তার ভাষায়—
“যে মানুষটি তোমাকে চা দিচ্ছেন, তিনি হয়তো তোমার বাবা-মাকেও ছোট দেখেছেন।”

বাবা হওয়ার আনন্দ

চিঠিতে উঠে এসেছে এক নিখাদ পারিবারিক ভালোবাসা—
যেদিন জানতে পারেন, তাঁদের সন্তান আসছে—তারা আনন্দে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন।

মায়ের ত্যাগের কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন—
কখনো বাজারের বেবিফুড নয়, সব নিজের হাতে বানানো
দিনের পর দিন সন্তানের জন্য নিরলস যত্ন

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা

সন্তানকে তিনি বিশেষভাবে বলেছিলেন—
মায়ের সংগ্রামকে বুঝতে, তার প্রতি সম্মান রাখতে।

“আমরা শুধু মায়ের বুকের উষ্ণতা অনুভব করি,
কিন্তু তার পিঠে গাঁথা কষ্টগুলো দেখি না।”

এই লাইনগুলোই সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে পাঠকদের।

উত্তরাধিকার হিসেবে যা দিয়ে গেলেন

চিঠির শেষে এক অসাধারণ উপহার—
রাহুল তাঁর সন্তানকে দিয়ে গেছেন ভাষা, সংস্কৃতি আর স্মৃতির উত্তরাধিকার।

নদী, পাহাড়, জঙ্গল
বইমেলার ধুলো
কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাত
আর সবচেয়ে বড়—বাংলা ভাষা

তিনি লিখেছেন—
“তোমাকে দিয়ে দিলাম আমার সবচেয়ে অহংকারের জিনিস—আমার ভাষা, বাংলা।”

শেষ কথা

এই চিঠি শুধু একজন অভিনেতার লেখা নয়—
এটি একজন বাবার ভালোবাসা, জীবনের শিক্ষা, আর সন্তানের প্রতি নীরব অঙ্গীকার।

এমন লেখা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার সম্পদ নয়,
ভালোবাসা, মূল্যবোধ আর ভাষা।