জুবিনের পর রাহুল—সমুদ্রেই থামল দুই শিল্পীর জীবন, ফের ভাইরাল ‘পিয়া রে’
‘পিয়া রে’ গানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দুই শিল্পী—রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও জুবিন গর্গ, এখন দুজনেই নেইকোলাজ
সময়ের সঙ্গে কিছু গান শুধু সুরে সীমাবদ্ধ থাকে না, হয়ে ওঠে এক প্রজন্মের আবেগের প্রতিচ্ছবি। বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘পিয়া রে’ ঠিক তেমনই—যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুই প্রিয় শিল্পী, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও জুবিন গর্গ।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আজ দুজনেই আর নেই। আর তাঁদের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত মিল—দুজনকেই কেড়ে নিয়েছে সমুদ্র।
গত ২৯ মার্চ দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং চলাকালে পানিতে ডুবে মারা যান জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ সিরিজের শুটিংয়ে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। ঘটনাটি আকস্মিক এবং এখনো তদন্তাধীন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে মারা যান জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গ। পরবর্তীতে তদন্তে তাঁর মৃত্যু ‘দুর্ঘটনা’ বলেই নিশ্চিত করা হয়।
এই দুই মর্মান্তিক ঘটনার মিল নতুন করে আলোচনায় এনেছে তাঁদের যৌথ স্মৃতি—‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির কালজয়ী গান ‘পিয়া রে’।
২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমা বাংলা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে এক নতুন ধারা তৈরি করেছিল। রাহুলের স্বাভাবিক অভিনয় এবং জুবিনের হৃদয়ছোঁয়া কণ্ঠ মিলে গানটিকে এনে দেয় অনন্য উচ্চতা।
এক সময় দুর্গাপূজার মণ্ডপ থেকে চায়ের দোকান—সবখানেই শোনা যেত ‘পিয়া রে’। কৈশোরের প্রেম, আবেগ আর অপূর্ণতার প্রতীক হয়ে ওঠে গানটি।
আজ সময় বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ধারা। তবুও ‘পিয়া রে’ এখনো সমানভাবে জীবন্ত। বরং দুই শিল্পীর অকাল প্রয়াণের পর গানটি যেন আরও বেশি আবেগময় হয়ে উঠেছে দর্শকদের কাছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা স্মৃতিচারণায় ভাসছেন—কেউ গান শেয়ার করছেন, কেউ ফিরছেন সেই পুরোনো দিনে।
দুই শিল্পী নেই, কিন্তু তাঁদের সৃষ্টি রয়ে গেছে—সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে, হৃদয়ের গভীরে।

























