বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব: রামগোপাল ভার্মার বিস্ফোরক দাবি
নব্বইয়ের দশকের হিন্দি চলচ্চিত্র জগৎ ছিল ভয়, প্রভাব এবং অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের এক অস্থির সময়। সেই সময়ের বাস্তবতা নিয়ে মুখ খুলেছেন নির্মাতা রামগোপাল ভার্মা, যিনি তাঁর স্পষ্টভাষী মন্তব্যের জন্য পরিচিত।
সম্প্রতি ক্রাইম রাইটার হুসেন জাইদি-র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড কখনোই এলোমেলোভাবে কাজ করত না—বরং পরিকল্পিতভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করত। এই প্রভাবের পেছনে বড় নাম হিসেবে উঠে আসে দাউদ ইব্রাহিম-এর মতো গ্যাংস্টারদের।
⚠️ ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
রামগোপাল ভার্মার মতে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের মূল লক্ষ্য শুধু অর্থ উপার্জন নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তারা ভয়কে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত। বড় তারকাদের টার্গেট করে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করাই ছিল তাদের কৌশল।
তিনি বলেন, যখন তারা শক্তি দেখাতে চাইত, তখন রাকেশ রোশন, সালমান খান ও শাহরুখ খান-এর মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হতো। এতে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত।
🎥 কাস্টিং ও অর্থায়নে চাপ
রামগোপালের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় বিদেশ থেকে আসা অর্থায়নের পেছনেও আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ থাকত। পাশাপাশি, কোন অভিনেতাকে সিনেমায় নেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্তেও চাপ প্রয়োগ করা হতো।
বিশেষ করে হৃতিক রোশন-এর মতো তারকাদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সরাসরি চাপ আসত বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি প্রচলিত নীতির কথাও উল্লেখ করেন—
“একজনকে হত্যা করে দশজনকে ভয় দেখানো।”
🔫 রাকেশ রোশনের ওপর হামলা
রামগোপাল ভার্মা ২০০০ সালের জানুয়ারিতে রাকেশ রোশন-এর ওপর হামলার ঘটনাকে এই প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেন।
তার দাবি, ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ মুক্তির পর আন্ডারওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে হৃতিক রোশনকে একটি প্রকল্পে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা ছিল—সামনে অন্য কেউ থাকলেও, পর্দার আড়াল থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে ছোট শাকিল।
কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাকেশ রোশনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারি বন্দুকধারীরা তার অফিসের বাইরে গুলি চালায়, যদিও তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
🧾 গুলশান কুমার হত্যাকাণ্ড
১৯৯৭ সালে সংগীত জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তি গুলশান কুমার-এর হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন ভার্মা।
তার মতে, গুলশান কুমারের ক্রমবর্ধমান সাফল্য এবং প্রভাব তাকে টার্গেটে পরিণত করে।
তিনি দাবি করেন, আবু সালেম-এর মতো আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের আধিপত্য জোরদারের একটি উপায় হিসেবে দেখেছিল।
গুলশান কুমার নাকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, যা তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে।
🎯 ভয় আর প্রভাবের সেই সময়
রামগোপাল ভার্মা জানান, ওই সময় বলিউডে কাজ করা অনেকের জন্যই ছিল চরম আতঙ্কের। গুলশান কুমারের হত্যার খবর পাওয়ার মুহূর্তটিকে তিনি “স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো” বলে উল্লেখ করেন।


























