টানা দুই সিরিজ জয়, বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল
টানা দুই মাসে দুই ওয়ানডে সিরিজ জিতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ধারাবাহিক এই সাফল্য শুধু আত্মবিশ্বাসই বাড়াচ্ছে না, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার লক্ষ্যেও দলটিকে এগিয়ে দিচ্ছে দৃঢ়ভাবে।
গত মাসে শক্তিশালী পাকিস্তান ক্রিকেট দল-কে তাদেরই বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারানোর পর এবার ঘরের মাঠে একই ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল-কে পরাজিত করেছে টাইগাররা। প্রতিপক্ষ দুই দলই বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত শক্তি হওয়ায় এই দুই সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বিশেষ করে আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগ বা র্যাংকিং বিবেচনায় এই জয়গুলো অত্যন্ত মূল্যবান। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসির ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে সাম্প্রতিক জয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব ভালো না হলেও ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি (১০৬), যা দলকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি এনে দেয়।
তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন লিটন দাস। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৭৬ রান করে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। মাঝের দিকে কিছু উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। মাত্র ৮ রানেই প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্রুতই আরও উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে কিউইরা। দ্বিতীয় উইকেট পড়ে ৫৪ রানে, এরপর দলীয় ৬১ রানে ফেরেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
তবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন ওপেনার নিক কেলি। ৮০ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে তিনি ছয়টি চার ও একটি ছক্কা মারেন। অন্যদিকে মিডল অর্ডারে ডেন ফক্সক্রফট লড়াই চালিয়ে যান এবং দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে বড় কোনো জুটি গড়ে উঠেনি।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। তার নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং ভ্যারিয়েশনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন কিউই ব্যাটাররা। ৯ ওভারে মাত্র ৪৩ রান দিয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেন তিনি।
অন্য বোলাররাও নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করায় শেষ পর্যন্ত ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ফলে ৫৫ রানের দারুণ জয়ে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় মেহেদি হাসান মিরাজ-এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু একটি সিরিজ নয়, আত্মবিশ্বাস, দলগত সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিক থেকেও বড় অর্জন পেয়েছে বাংলাদেশ। সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ থাকায় এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবে রূপ নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।


























