০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে গোপন বৈঠক! ১৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা

চট্টগ্রামে গোপন বৈঠক! ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

ছবি সংগ্রহীত

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) নগরের হালিশহর থানায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গোপনে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত হয়ে সরকারবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৩ মে) রাত ৯টার দিকে নগরের নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় তায়েফ নামের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের পাশাপাশি আরও ৯০ থেকে ৯৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শহিদুল ইসলাম (৩৭), মো. নয়ন (১৯), মেহেদী হাসান সোহান (২১), মো. ইব্রাহীম (২৪), সাজ্জাদ হোসেন রাকিব (২৪), মো. ইসমাইল (২৬), রবিউল ইসলাম রাজু (২০), মো. সাকিল খান (২০), মো. রাজিব (২৯), মো. আশরাফুল (১৯), জাহেদ হোসেন (৩৪), মো. আরিফ (২৫), মো. রাফি (২০) ও ইমাম হোসেন (৩০)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’-এর প্রধান সংগঠক। বৈঠকের মাধ্যমে দেশের বাইরে অবস্থানরত নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, যেখানে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ, উত্তর ও ফেনী জেলার নামে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলায় আরও বলা হয়, এসব গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। গ্রেপ্তার অন্যরাও এসব গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তার নির্দেশে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
৫৯ Time View

চট্টগ্রামে গোপন বৈঠক! ১৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা

চট্টগ্রামে গোপন বৈঠক! ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

Update Time : ০৬:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) নগরের হালিশহর থানায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গোপনে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত হয়ে সরকারবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৩ মে) রাত ৯টার দিকে নগরের নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় তায়েফ নামের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের পাশাপাশি আরও ৯০ থেকে ৯৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শহিদুল ইসলাম (৩৭), মো. নয়ন (১৯), মেহেদী হাসান সোহান (২১), মো. ইব্রাহীম (২৪), সাজ্জাদ হোসেন রাকিব (২৪), মো. ইসমাইল (২৬), রবিউল ইসলাম রাজু (২০), মো. সাকিল খান (২০), মো. রাজিব (২৯), মো. আশরাফুল (১৯), জাহেদ হোসেন (৩৪), মো. আরিফ (২৫), মো. রাফি (২০) ও ইমাম হোসেন (৩০)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’-এর প্রধান সংগঠক। বৈঠকের মাধ্যমে দেশের বাইরে অবস্থানরত নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, যেখানে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ, উত্তর ও ফেনী জেলার নামে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলায় আরও বলা হয়, এসব গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। গ্রেপ্তার অন্যরাও এসব গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তার নির্দেশে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।