০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীকে হত্যার পর লাশ ৬ টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে আটক স্ত্রী

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে। পরে হাড়-মাংস আলাদা করে ড্রাম ও ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি।

শুক্রবার রাতে আসমাকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জিয়া সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর আসমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এটি ছিল দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ১২ মে রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে আসমা লোহার রড দিয়ে জিয়ার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মারা গেলে লাশ গুম করতে ছুরি দিয়ে মরদেহ ৬ টুকরো করেন। পরে কয়েকদিন ড্রাম ও ফ্রিজে রেখে দেন।

শুক্রবার রাতে তিনি লাশের বিভিন্ন অংশ শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেন। পরে পুরোনো ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে মাংস রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ৯৯৯-এ ফোন দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমাকে আটক করে এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকেও হাত-পা উদ্ধার করা হয়।

আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার রাতে রাগের মাথায় আঘাত করলে এমন ঘটনা ঘটে যায়।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল। ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ১২:৩১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২৮ Time View

স্বামীকে হত্যার পর লাশ ৬ টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে আটক স্ত্রী

Update Time : ১২:৩১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে। পরে হাড়-মাংস আলাদা করে ড্রাম ও ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি।

শুক্রবার রাতে আসমাকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জিয়া সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর আসমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এটি ছিল দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ১২ মে রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে আসমা লোহার রড দিয়ে জিয়ার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মারা গেলে লাশ গুম করতে ছুরি দিয়ে মরদেহ ৬ টুকরো করেন। পরে কয়েকদিন ড্রাম ও ফ্রিজে রেখে দেন।

শুক্রবার রাতে তিনি লাশের বিভিন্ন অংশ শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেন। পরে পুরোনো ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে মাংস রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ৯৯৯-এ ফোন দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমাকে আটক করে এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকেও হাত-পা উদ্ধার করা হয়।

আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার রাতে রাগের মাথায় আঘাত করলে এমন ঘটনা ঘটে যায়।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল। ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে।