০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাপ্পারাজ ভাইয়ের কথা শুনে বাসায় গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছি’: আবেগাপ্লুত মুক্তি

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির (বিএফএএস) আসন্ন ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসিপাড়ায় এখন নির্বাচনী উত্তাপ চরমে। এর মধ্যেই প্যানেলের নিশ্চিত সভাপতি পদ থেকে হঠাৎ করেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন ‘নায়করাজ’ রাজ্জাকের বড় ছেলে ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্র পাড়ায় এক নজিরবিহীন আবেগঘন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে এবং কান্নায় ভেঙে পড়েছেন একই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি।

মুক্তির আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ও হতাশা

বাপ্পারাজের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মুক্তি। গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান:

  • পুরো জীবনে তিনি মাত্র দুবার প্রকাশ্যে ও হাউমাউ করে কেঁদেছেন। প্রথমবার নিজের পরম শ্রদ্ধেয় বাবার মৃত্যুর পর।
  • আর দ্বিতীয়বার কেঁদেছেন কয়েক দিন আগে, যখন বাপ্পারাজ ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে নিশ্চিত করেন যে তিনি এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না।

নিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে মুক্তি বলেন, “আমি সহজে কারও সামনে কখনো কান্না করি না। কিন্তু যখন বাপ্পা ভাই বললেন তিনি নির্বাচন করবেন না, তখন আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসায় গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছি। চরম টেনশনে ছিলাম, ভাবছিলাম এখন কী করব, কার কাছে যাব! কারণ, নির্বাচনের তো আর বেশি দিন সময় নেই।”

বাপ্পারাজের সরে দাঁড়ানোর কারণ

নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরুতে সভাপতি পদে বাপ্পারাজের নাম ঘোষণার পর সাধারণ ভোটার ও শিল্পীদের মধ্যে নতুন আশার আলো তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনী বৈঠক ও প্যানেল সাজানোতেও নিয়মিত একসঙ্গে দেখা যাচ্ছিল বাপ্পারাজ ও মুক্তিকে। কিন্তু গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই বদলে যায় দৃশ্যপট।

নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেন বাপ্পারাজ। তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত কিছু কারণের পাশাপাশি বড় ধরনের ব্যবসায়িক ব্যস্ততা রয়েছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচন করে যদি আমি সাধারণ শিল্পীদের ও সমিতিকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারি, তাহলে বিষয়টি দেখতে একেবারেই ভালো দেখায় না। তাই নৈতিক দিক বিবেচনা করেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

নতুন সভাপতি হিসেবে ফাইট ডিরেক্টর আরমান

বাপ্পারাজের বিদায়ে প্যানেল যখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই নতুন সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সামনে আসে প্রখ্যাত ফাইট ডিরেক্টর আরমানের নাম।

  • এ বিষয়ে মুক্তি বলেন, প্যানেলের একজন অত্যন্ত সিনিয়র ব্যক্তিত্ব প্রথম প্রস্তাব করেন যে আরমান ভাই সভাপতি হতে পারেন।
  • আরমান সবসময় নেপথ্যে থেকে প্যানেল সাজানোর মূল কাজটি করছিলেন। তিনি চাইছিলেন অন্য কোনো নামকরা নায়কই সভাপতি পদে আসুক।
  • কিন্তু পরবর্তীতে বাপ্পারাজের অবর্তমানে সাধারণ ভোটার ও শিল্পীদের ব্যাপক ইতিবাচক মতামত ও প্রবল চাওয়ার ভিত্তিতে আরমানকেই সভাপতি পদে চূড়ান্ত করা হয়।

নতুন সভাপতি প্রার্থীকে নিয়ে প্যানেল এখন জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা মুক্তি।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
৪৮ Time View

‘বাপ্পারাজ ভাইয়ের কথা শুনে বাসায় গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছি’: আবেগাপ্লুত মুক্তি

Update Time : ০৭:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির (বিএফএএস) আসন্ন ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসিপাড়ায় এখন নির্বাচনী উত্তাপ চরমে। এর মধ্যেই প্যানেলের নিশ্চিত সভাপতি পদ থেকে হঠাৎ করেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন ‘নায়করাজ’ রাজ্জাকের বড় ছেলে ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্র পাড়ায় এক নজিরবিহীন আবেগঘন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে এবং কান্নায় ভেঙে পড়েছেন একই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি।

মুক্তির আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ও হতাশা

বাপ্পারাজের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মুক্তি। গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান:

  • পুরো জীবনে তিনি মাত্র দুবার প্রকাশ্যে ও হাউমাউ করে কেঁদেছেন। প্রথমবার নিজের পরম শ্রদ্ধেয় বাবার মৃত্যুর পর।
  • আর দ্বিতীয়বার কেঁদেছেন কয়েক দিন আগে, যখন বাপ্পারাজ ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে নিশ্চিত করেন যে তিনি এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না।

নিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে মুক্তি বলেন, “আমি সহজে কারও সামনে কখনো কান্না করি না। কিন্তু যখন বাপ্পা ভাই বললেন তিনি নির্বাচন করবেন না, তখন আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসায় গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছি। চরম টেনশনে ছিলাম, ভাবছিলাম এখন কী করব, কার কাছে যাব! কারণ, নির্বাচনের তো আর বেশি দিন সময় নেই।”

বাপ্পারাজের সরে দাঁড়ানোর কারণ

নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরুতে সভাপতি পদে বাপ্পারাজের নাম ঘোষণার পর সাধারণ ভোটার ও শিল্পীদের মধ্যে নতুন আশার আলো তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনী বৈঠক ও প্যানেল সাজানোতেও নিয়মিত একসঙ্গে দেখা যাচ্ছিল বাপ্পারাজ ও মুক্তিকে। কিন্তু গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই বদলে যায় দৃশ্যপট।

নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেন বাপ্পারাজ। তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত কিছু কারণের পাশাপাশি বড় ধরনের ব্যবসায়িক ব্যস্ততা রয়েছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচন করে যদি আমি সাধারণ শিল্পীদের ও সমিতিকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারি, তাহলে বিষয়টি দেখতে একেবারেই ভালো দেখায় না। তাই নৈতিক দিক বিবেচনা করেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

নতুন সভাপতি হিসেবে ফাইট ডিরেক্টর আরমান

বাপ্পারাজের বিদায়ে প্যানেল যখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই নতুন সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সামনে আসে প্রখ্যাত ফাইট ডিরেক্টর আরমানের নাম।

  • এ বিষয়ে মুক্তি বলেন, প্যানেলের একজন অত্যন্ত সিনিয়র ব্যক্তিত্ব প্রথম প্রস্তাব করেন যে আরমান ভাই সভাপতি হতে পারেন।
  • আরমান সবসময় নেপথ্যে থেকে প্যানেল সাজানোর মূল কাজটি করছিলেন। তিনি চাইছিলেন অন্য কোনো নামকরা নায়কই সভাপতি পদে আসুক।
  • কিন্তু পরবর্তীতে বাপ্পারাজের অবর্তমানে সাধারণ ভোটার ও শিল্পীদের ব্যাপক ইতিবাচক মতামত ও প্রবল চাওয়ার ভিত্তিতে আরমানকেই সভাপতি পদে চূড়ান্ত করা হয়।

নতুন সভাপতি প্রার্থীকে নিয়ে প্যানেল এখন জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা মুক্তি।