০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের আগেই রণক্ষেত্র টাইমস স্কয়ার: আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ

বেঙ্গল আই স্পোর্টস ডেস্ক | নিউইয়র্ক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত এক ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই পর্যটন কেন্দ্রে প্রকাশ্যেই সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার সমর্থকরা।

সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল কিল-ঘুষি ও লাথি ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করেন সাধারণ পর্যটকরা। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম বড় ধরনের ‘ফ্যান-ভায়োলেন্স’ বা সমর্থক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

যেভাবে শুরু হলো সংঘর্ষ

গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ (বড় টুর্নামেন্টের আগে পতাকা উড়িয়ে বিশাল গণজমায়েত) করার জন্য জড়ো হয়েছিলেন। পুরো এলাকা নীল-সাদা পতাকায় ছেয়ে গিয়েছিল।

  • ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য পারিসিয়ান’-এর বরাতে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবাই’ জানায়, একই সময়ে সেখানে আলজেরিয়ার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সঙ্গে ফ্রান্স ও সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন।
  • উৎসবমুখর পরিবেশে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। এই মৌখিক বাগবিতণ্ডাই দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং রাস্তা জুড়ে শুরু হয় উন্মুক্ত মারামারি।

রণক্ষেত্র টাইমস স্কয়ার ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, সাধারণ পথচারী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা ওপর থেকে ছুড়ে মারা বিভিন্ন বস্তু থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করছেন।

  • স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এই দৃশ্যকে একটি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র’ এবং এটিকে ‘বিশ্বকাপের প্রথম কুৎসিত ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ (NYPD) এবং বেশ কয়েকজন সমর্থককে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান বা বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্ব গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা

জনপ্রিয় এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ এই সংঘর্ষের ভিডিও পোস্ট করার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

  • ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘ফিফার জন্য কী এক লজ্জাজনক বিষয়!’

নিরাপত্তায় ঘাটতি ও আজকের ম্যাচ

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স আগেই জানিয়েছিল যে টাইমস স্কয়ারে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা এবং আলজেরিয়ার সমর্থকরা জড়ো হচ্ছেন। কিন্তু সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘ফ্যান-জোন’ বা সমর্থকদের আলাদা করার কোনো গাইডলাইন না থাকায় এই বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাদের ঘিরে সমর্থকদের আবেগ ও চাপ এমনিতেই বহুগুণ বেশি।

আজ (১৬ জুন) পূর্বদেশীয় সময় রাত ৯টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। টাইমস স্কয়ারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এখন সবার নজর কানসাস সিটির ম্যাচের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:৫৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
৭২ Time View

বিশ্বকাপের আগেই রণক্ষেত্র টাইমস স্কয়ার: আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ

Update Time : ০৪:৫৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই স্পোর্টস ডেস্ক | নিউইয়র্ক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত এক ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই পর্যটন কেন্দ্রে প্রকাশ্যেই সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার সমর্থকরা।

সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল কিল-ঘুষি ও লাথি ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করেন সাধারণ পর্যটকরা। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম বড় ধরনের ‘ফ্যান-ভায়োলেন্স’ বা সমর্থক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

যেভাবে শুরু হলো সংঘর্ষ

গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্দেরাজো’ (বড় টুর্নামেন্টের আগে পতাকা উড়িয়ে বিশাল গণজমায়েত) করার জন্য জড়ো হয়েছিলেন। পুরো এলাকা নীল-সাদা পতাকায় ছেয়ে গিয়েছিল।

  • ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল্য পারিসিয়ান’-এর বরাতে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘ইনফোবাই’ জানায়, একই সময়ে সেখানে আলজেরিয়ার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের সঙ্গে ফ্রান্স ও সেনেগালের কিছু সমর্থকও যোগ দেন।
  • উৎসবমুখর পরিবেশে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। এই মৌখিক বাগবিতণ্ডাই দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং রাস্তা জুড়ে শুরু হয় উন্মুক্ত মারামারি।

রণক্ষেত্র টাইমস স্কয়ার ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, সাধারণ পথচারী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা ওপর থেকে ছুড়ে মারা বিভিন্ন বস্তু থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করছেন।

  • স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও এএস’ এই দৃশ্যকে একটি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্র’ এবং এটিকে ‘বিশ্বকাপের প্রথম কুৎসিত ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ (NYPD) এবং বেশ কয়েকজন সমর্থককে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান বা বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্ব গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা

জনপ্রিয় এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘ফুটবল অ্যাওয়ে ডেইজ’-এ এই সংঘর্ষের ভিডিও পোস্ট করার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

  • ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘ফিফার জন্য কী এক লজ্জাজনক বিষয়!’

নিরাপত্তায় ঘাটতি ও আজকের ম্যাচ

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স আগেই জানিয়েছিল যে টাইমস স্কয়ারে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা এবং আলজেরিয়ার সমর্থকরা জড়ো হচ্ছেন। কিন্তু সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘ফ্যান-জোন’ বা সমর্থকদের আলাদা করার কোনো গাইডলাইন না থাকায় এই বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাদের ঘিরে সমর্থকদের আবেগ ও চাপ এমনিতেই বহুগুণ বেশি।

আজ (১৬ জুন) পূর্বদেশীয় সময় রাত ৯টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। টাইমস স্কয়ারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এখন সবার নজর কানসাস সিটির ম্যাচের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর।