০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাইতিকে যেদিন ৭–১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল: ফিরে দেখা ইতিহাস

বেঙ্গল আই স্পোর্টস ডেস্ক | ঢাকা

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ হাইতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারানো সেলেসাওদের জন্য এই ম্যাচটি হারানো ছন্দ ফিরে পাওয়ার এক বড় সুযোগ। আর এই ম্যাচের আবহেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে বারবার ফিরে আসছে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার সেই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ম্যাচের স্মৃতি, যেদিন হাইতিকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল।

২০১৬ কোপা আমেরিকা: ক্যারিবীয়দের ওপর সেলেসাওদের গোলবন্যা

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত শতবর্ষী কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ক্যারিবীয় দলটির ওপর আক্ষরিক অর্থেই গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছিল সেলেসাওরা। ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তৎকালীন দুঙ্গা বাহিনী।

  • কৌতিনিয়োর হ্যাটট্রিক: সেদিনের ম্যাচে দূরন্ত এক হ্যাটট্রিক করে স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন তারকা মিডফিল্ডার ফিলিপে কৌতিনিয়ো। ম্যাচের ১১, ২৯ এবং শেষ মুহূর্তে (৯২ মিনিট) গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
  • অন্যান্য গোলদাতা: কৌতিনিয়োর হ্যাটট্রিক ছাড়াও জোড়া গোল করে অবদান রাখেন রেনাতো অগুস্তো। বাকি দুটি গোল আসে আক্রমণভাগের তারকা গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ও লুকাস লিমার পা থেকে।
  • হাইতির সান্ত্বনা: ম্যাচের ৭০ মিনিটে হাইতির জেমস মার্সেলিন একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করতে সক্ষম হন।

জার্মানির কাছে ঘরের মাঠে ৭-১ গোলে হারের যে ক্ষত ছিল, হাইতির বিপক্ষে এই বিশাল জয়টি ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে সেসময় কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছিল।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানে একচ্ছত্র আধিপত্য

ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে ব্রাজিল ও হাইতির। তিন ম্যাচের তিনটিতেই একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়ে জিতেছে ব্রাজিল। প্রতিবারই হাইতির জালে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে সেলেসাওরা। তিন ম্যাচে ব্রাজিল মোট ১৭টি গোল করেছে, বিপরীতে হজম করতে হয়েছে মাত্র ১টি।

ব্রাজিল বনাম হাইতি: অতীতের লড়াই

সালটুর্নামেন্টের ধরনম্যাচের ফলাফল
১৯৭৪আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচব্রাজিল ৪ – ০ হাইতি
২০০৪প্রীতি ম্যাচ (শান্তি মিশন)ব্রাজিল ৬ – ০ হাইতি
২০১৬কোপা আমেরিকাব্রাজিল ৭ – ১ হাইতি

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা ও প্রত্যাশা

হাইতির ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের স্মৃতি বলতে রয়েছে কেবল ১৯৭৪ সালের আসর। এরপর দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষা শেষে এবার আবারও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে ক্যারিবীয় দেশটি।

বিপরীতে ব্রাজিল খেলছে নিজেদের ২৩তম বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সব আসরে অংশগ্রহণ করা একমাত্র দল তারা এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি শিরোপার মালিকও এই সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও চেনা প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে পুরোনো সেই বিধ্বংসী রূপেরই পুনরাবৃত্তি দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন ব্রাজিলের সমর্থকেরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
৭১ Time View

হাইতিকে যেদিন ৭–১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল: ফিরে দেখা ইতিহাস

Update Time : ০৫:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই স্পোর্টস ডেস্ক | ঢাকা

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ হাইতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারানো সেলেসাওদের জন্য এই ম্যাচটি হারানো ছন্দ ফিরে পাওয়ার এক বড় সুযোগ। আর এই ম্যাচের আবহেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে বারবার ফিরে আসছে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার সেই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ম্যাচের স্মৃতি, যেদিন হাইতিকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল।

২০১৬ কোপা আমেরিকা: ক্যারিবীয়দের ওপর সেলেসাওদের গোলবন্যা

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত শতবর্ষী কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ক্যারিবীয় দলটির ওপর আক্ষরিক অর্থেই গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছিল সেলেসাওরা। ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তৎকালীন দুঙ্গা বাহিনী।

  • কৌতিনিয়োর হ্যাটট্রিক: সেদিনের ম্যাচে দূরন্ত এক হ্যাটট্রিক করে স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন তারকা মিডফিল্ডার ফিলিপে কৌতিনিয়ো। ম্যাচের ১১, ২৯ এবং শেষ মুহূর্তে (৯২ মিনিট) গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
  • অন্যান্য গোলদাতা: কৌতিনিয়োর হ্যাটট্রিক ছাড়াও জোড়া গোল করে অবদান রাখেন রেনাতো অগুস্তো। বাকি দুটি গোল আসে আক্রমণভাগের তারকা গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ও লুকাস লিমার পা থেকে।
  • হাইতির সান্ত্বনা: ম্যাচের ৭০ মিনিটে হাইতির জেমস মার্সেলিন একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করতে সক্ষম হন।

জার্মানির কাছে ঘরের মাঠে ৭-১ গোলে হারের যে ক্ষত ছিল, হাইতির বিপক্ষে এই বিশাল জয়টি ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে সেসময় কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছিল।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানে একচ্ছত্র আধিপত্য

ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে ব্রাজিল ও হাইতির। তিন ম্যাচের তিনটিতেই একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়ে জিতেছে ব্রাজিল। প্রতিবারই হাইতির জালে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে সেলেসাওরা। তিন ম্যাচে ব্রাজিল মোট ১৭টি গোল করেছে, বিপরীতে হজম করতে হয়েছে মাত্র ১টি।

ব্রাজিল বনাম হাইতি: অতীতের লড়াই

সালটুর্নামেন্টের ধরনম্যাচের ফলাফল
১৯৭৪আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচব্রাজিল ৪ – ০ হাইতি
২০০৪প্রীতি ম্যাচ (শান্তি মিশন)ব্রাজিল ৬ – ০ হাইতি
২০১৬কোপা আমেরিকাব্রাজিল ৭ – ১ হাইতি

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা ও প্রত্যাশা

হাইতির ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের স্মৃতি বলতে রয়েছে কেবল ১৯৭৪ সালের আসর। এরপর দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষা শেষে এবার আবারও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে ক্যারিবীয় দেশটি।

বিপরীতে ব্রাজিল খেলছে নিজেদের ২৩তম বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সব আসরে অংশগ্রহণ করা একমাত্র দল তারা এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি শিরোপার মালিকও এই সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও চেনা প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে পুরোনো সেই বিধ্বংসী রূপেরই পুনরাবৃত্তি দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন ব্রাজিলের সমর্থকেরা।