চোখের জলে বিদায়: স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ রোনালদোর
বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মহানায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল। নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর এক লড়াই শেষে পর্তুগালকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। আর এই হারের মধ্য দিয়েই শেষ হয়ে গেল পর্তুগিজ অধিনায়কের দীর্ঘ ও গৌরবময় বিশ্বকাপ যাত্রা। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল নিয়ে একাই মাঠ ছাড়তে দেখা যায় ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে।
একনজরে রোনালদোর বিশ্বকাপ বিদায় ও পরিসংখ্যান:
| বিবরণ | তথ্য |
| খেলোয়াড় | ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো |
| বয়স | ৪১ বছর |
| বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ | ৬টি |
| বিশ্বকাপে মোট গোল | ১১টি |
| চলতি বিশ্বকাপে (২০২৬) গোল | ৩টি |
| নকআউট পর্বে গোল | মাত্র ১টি (২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে) |
| বিদায়ের ম্যাচ | পর্তুগাল বনাম স্পেন (শেষ ষোলো) |
‘হে বন্ধু বিদায়…’
তিনি নিজে বিদায় নিলেন, নাকি তাঁকে বিদায় জানাতে হলো—যেভাবেই বলা হোক না কেন, বিশ্বকাপে এখানেই তাঁর পথচলার সমাপ্তি। রোনালদোর এই বিদায়বেলায় বিশ্বকবির ‘শেষের কবিতা’র চরণ যেন বড্ড বেশি প্রাসঙ্গিক:
‘ফিরিবার পথ নাহি,
দূর হতে দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায়।
হে বন্ধু বিদায়।’
সত্যিই ৪১ বছর বয়সী এই তারকার বিশ্বকাপে ফেরার আর কোনো পথ বাকি নেই। তবে ফুটবলপ্রেমীরা তাঁকে কখনো চিনতে ভুল করবে না। ম্যাচের আগেই রোনালদো জানিয়েছিলেন, এটাই হতে যাচ্ছে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। সত্যিই যদি তাই হয়, তবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকার বিদায়টা হলো অনেকটাই নীরব ও বেদনাবিধুর।
নকআউটের আক্ষেপ ও পরিসংখ্যান
ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলদাতা হলেও, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর অবদান পরিসংখ্যানের বিচারে বেশ সীমিতই থেকে গেল।
পুরো বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারজুড়ে নকআউট ম্যাচে তিনি মাত্র একটি গোল করতে পেরেছেন। সেটি এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপে মোট ১১ গোল করার পাশাপাশি এবারের আসরে ৩ গোল করলেও নকআউটে ওই একটি গোলের রেকর্ড নিয়েই বিশ্বকাপকে চিরবিদায় জানালেন তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল, এই বয়সে এসে এমন একটি টুর্নামেন্ট তাঁর জন্য একটু বেশিই কঠিন হয়ে গেল কি না? মাঠের খেলা এবং শেষ ষোলো থেকে বিদায় যেন সেই প্রশ্নটিকেই আবারও সামনে এনে দিল।


























