০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালান্ডের মহাকাব্যিক রাত: ব্রাজিলকে ২-১ গোলে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা

আর্লিং হালান্ডের জাদুকরী পারফরম্যান্সে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল। শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের চমক নরওয়ে। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল শোধ করলেও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জন্য আর কোনো সময় পায়নি সেলেসাওরা।

একনজরে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

বিবরণতথ্য
ফলাফলনরওয়ে ২ – ১ ব্রাজিল
নরওয়ের গোলদাতাআর্লিং হালান্ড (৭৯ মিনিট ও শেষদিকে)
ব্রাজিলের গোলদাতানেইমার (শেষদিকে, পেনাল্টি)
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট১৪ মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের পেনাল্টি মিস
বিশেষ অর্জন (হালান্ড)জোড়া গোলে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা ৭ (মেসি-এমবাপ্পের সমান)
ম্যাচের ফলশ্রুতিনরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে, ব্রাজিলের বিদায়

পেনাল্টি মিস ও প্রথমার্ধের হতাশা

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সতর্ক ফুটবল খেললেও প্রথম বড় সুযোগটি পায় ব্রাজিল। ১১ মিনিটে বক্সের ভেতর মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করার পর ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার মাধ্যমে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কিন্তু ১৪ মিনিটে সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারাইস। তাঁর নেওয়া শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হলেও ব্রাজিলিয়ানদের জন্য একটি হতাশার পরিসংখ্যান যোগ হয়—বিশ্বকাপে (টাইব্রেকার বাদে) গত ৪০ বছরে প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো।

এনদ্রিকের অবিশ্বাস্য মিস ও হালান্ডের জাদু

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের আশায় ৫৮ মিনিটে কুনিয়ার পরিবর্তে এনদ্রিককে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। মাঠে নেমেই ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাসে গোলরক্ষককে একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি।

ব্রাজিলের এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।

  • প্রথম গোল: ৭৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি।
  • দ্বিতীয় গোল: ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭-এ।

নেইমারের সান্ত্বনার গোল ও বিদায়

ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে কাসেমিরো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নেইমার। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাকি কয়েক সেকেন্ডে আর সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি ব্রাজিলের।

শেষ পর্যন্ত হালান্ডের জোড়া গোলেই বাজিমাত করে নরওয়ে এবং শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৩০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
৯৭ Time View

হালান্ডের মহাকাব্যিক রাত: ব্রাজিলকে ২-১ গোলে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

Update Time : ১১:৩০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা

আর্লিং হালান্ডের জাদুকরী পারফরম্যান্সে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল। শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের চমক নরওয়ে। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল শোধ করলেও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জন্য আর কোনো সময় পায়নি সেলেসাওরা।

একনজরে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

বিবরণতথ্য
ফলাফলনরওয়ে ২ – ১ ব্রাজিল
নরওয়ের গোলদাতাআর্লিং হালান্ড (৭৯ মিনিট ও শেষদিকে)
ব্রাজিলের গোলদাতানেইমার (শেষদিকে, পেনাল্টি)
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট১৪ মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের পেনাল্টি মিস
বিশেষ অর্জন (হালান্ড)জোড়া গোলে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা ৭ (মেসি-এমবাপ্পের সমান)
ম্যাচের ফলশ্রুতিনরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে, ব্রাজিলের বিদায়

পেনাল্টি মিস ও প্রথমার্ধের হতাশা

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সতর্ক ফুটবল খেললেও প্রথম বড় সুযোগটি পায় ব্রাজিল। ১১ মিনিটে বক্সের ভেতর মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করার পর ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার মাধ্যমে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কিন্তু ১৪ মিনিটে সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারাইস। তাঁর নেওয়া শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হলেও ব্রাজিলিয়ানদের জন্য একটি হতাশার পরিসংখ্যান যোগ হয়—বিশ্বকাপে (টাইব্রেকার বাদে) গত ৪০ বছরে প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো।

এনদ্রিকের অবিশ্বাস্য মিস ও হালান্ডের জাদু

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের আশায় ৫৮ মিনিটে কুনিয়ার পরিবর্তে এনদ্রিককে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। মাঠে নেমেই ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাসে গোলরক্ষককে একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি।

ব্রাজিলের এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।

  • প্রথম গোল: ৭৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি।
  • দ্বিতীয় গোল: ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭-এ।

নেইমারের সান্ত্বনার গোল ও বিদায়

ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে কাসেমিরো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নেইমার। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাকি কয়েক সেকেন্ডে আর সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি ব্রাজিলের।

শেষ পর্যন্ত হালান্ডের জোড়া গোলেই বাজিমাত করে নরওয়ে এবং শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।