সাকার হ্যাটট্রিক, ১০ গোলের রোমাঞ্চকর থ্রিলারে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড
বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও বিশ্বকাপের শেষটা দারুণভাবে রাঙিয়েছে ইংল্যান্ড। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। বুকায়ো সাকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, ডেকলান রাইসের গোল এবং শেষদিকে জুড বেলিংহ্যামের একক নৈপুণ্যে এই স্মরণীয় জয় তুলে নেয় থমাস টুখেলের দল।
একনজরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের সারসংক্ষেপ:
| বিবরণ | তথ্য |
| ম্যাচ | ইংল্যান্ড ৬ – ৪ ফ্রান্স |
| ম্যাচের ধরন | বিশ্বকাপ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী (প্লে-অফ) |
| ভেন্যু | মায়ামি, যুক্তরাষ্ট্র |
| ইংল্যান্ডের গোলদাতা | ডেকলান রাইস (৩’), এজরি কনসা (১৯’), বুকায়ো সাকা (৩৭’, ৪৫+১’, ৮৬’ পে.), জুড বেলিংহ্যাম (৯০+৮’) |
| ফ্রান্সের গোলদাতা | কিলিয়ান এমবাপ্পে (৪৮’, ৬৭’), ব্র্যাডলি বারকোলা (৫৪’), ওসমান দেম্বেলে (৯০+৬’) |
| ম্যাচের সেরা মুহূর্ত | বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক ও জুড বেলিংহ্যামের একক নৈপুণ্যের গোল |
প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলের বিশাল লিড ইংল্যান্ডের
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড।
- ৩য় মিনিট: মাঝমাঠে ফ্রান্সের ডেজিরে দুয়ের ভুল পাস কেড়ে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় গোল করেন ডেকলান রাইস। ডান পায়ের দারুণ বাঁকানো শটে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করেন তিনি।
- ১৯তম মিনিট: রাইসের নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে বক্সে উঠে আসা ডিফেন্ডার এজরি কনসা অসাধারণ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
- ৩৭তম ও ৪৫+১ মিনিট: মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠান বুকায়ো সাকা। এরপর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও রাশফোর্ডের বাড়ানো বল থেকে সহজ ফিনিশে প্রথমার্ধেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই আর্সেনাল উইঙ্গার।
বিরতিতে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে থমাস টুখেলের দল।
দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পেদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন চেষ্টা
দ্বিতীয়ার্ধে যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে ফ্রান্স।
- ৪৮তম মিনিট: মাইকেল অলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান কমান ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
- ৫৪তম মিনিট: ইংল্যান্ডের একটি আক্রমণ ভেস্তে যাওয়ার পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
- ৬৭তম মিনিট: আবারও মাইকেল অলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জাল কাঁপিয়ে ব্যবধান ৪-৩ করে ফেলেন এমবাপ্পে, যা ফরাসিদের মনে অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের আশা জাগায়।
সাকার হ্যাটট্রিক ও বেলিংহ্যামের ফিনিশিংয়ে জয় নিশ্চিত
ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেন সাকা। ৮৬তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি (৫-৩)।
যোগ করা সময়েও নাটকের শেষ ছিল না। ৯০+৬ মিনিটে দায়ো উপামেকানোর পাস থেকে জোরালো শটে গোল করে ব্যবধান আবার এক গোলে নামিয়ে আনেন ওসমান দেম্বেলে (৫-৪)। তবে শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ডই। ৯০+৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জুড বেলিংহ্যাম মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে ৬-৪ ব্যবধানে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
শেষ বাঁশি বাজার পর ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের উল্লাসে ফেটে পড়ে মায়ামির স্টেডিয়াম। অন্যদিকে, বিদায়ী ম্যাচে হারলেও হাসিমুখে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ও ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হলেও ১০ গোলের এই লড়াই দর্শকদের উপহার দিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় এক ফুটবল সন্ধ্যা।


























