০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন: তোরেসের জাদুকরী গোলে দ্বিতীয় শিরোপা উল্লাস

বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা

লড়াইটা ছিল সেয়ানে সেয়ানে, তবে মাঠের খেলায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। ১-০ গোলের এই দুর্দান্ত জয়ে সব মিলিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল স্প্যানিশরা। টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে খেলতে আসা স্পেন ফাইনালে এতটাই গোছানো ফুটবল খেলেছে যে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পুরোটা সময় মাঠের কোণঠাসা করে রাখে তারা।

একনজরে ফাইনাল ম্যাচের সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
ফলাফলআর্জেন্টিনা ০ – ১ স্পেন
ম্যাচের ধরনবিশ্বকাপ ফাইনাল
ভেন্যুমেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র
স্পেনের গোলদাতাফেররান তোরেস (১০৬ মিনিট)
লাল কার্ড (আর্জেন্টিনা)এনজো ফার্নান্দেজ (৯০+৩ মিনিট)
স্পেনের অর্জনদ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা (২০১০ ও ২০২৬)

স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্য ও প্রথমার্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য চোখে পড়ার মতো ছিল। বলের দখলে শুরু থেকেই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে রীতিমতো চাপের মুখে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

  • ৫ম মিনিট: লামিন ইয়ামাল গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
  • ১২তম মিনিট: স্পেন প্রথম কর্নার পেলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সতর্কতায় আর্জেন্টিনা বিপদমুক্ত থাকে।

খেলার প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে স্প্যানিশরা আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে রাখলেও, গোলমুখের তালা খুলতে ব্যর্থ হয় তারা। স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে লিওনেল মেসিদের রীতিমতো খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে। বিপরীতে, লিওনেল স্কালোনির দলকে পুরো প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তা ও ফার্নান্দেজের লাল কার্ড

গোল আদায়ে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বেশ কিছু নিশ্চিত আক্রমণ প্রতিহত করে দলকে খেলায় টিকিয়ে রাখেন। এতে ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা পায় না স্প্যানিশরা। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলে তেমন কোনো শটই নিতে পারেনি।

তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩) পাউ কুবারসিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। তার বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় স্কালোনির দলের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের জয়সূচক গোল

নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। আর সেখানেই বাজিমাত করে স্পেন।

  • ১০৬তম মিনিট: বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বলটা দারুণ দক্ষতায় মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। বলটি অনেকটা ফাঁকায় পেয়ে যান বদলি নামা ফেররান তোরেস। এরপরই আগুনে এক শটে বল জালে জড়ান তিনি।

পিছিয়ে পড়ার পর ১০ জনের দল নিয়ে গোল শোধের আপ্রাণ চেষ্টা করলেও স্পেনের জমাট রক্ষণের সামনে সুবিধা করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। স্পেনও বাকি সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ১-০ গোলের জয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
১০১ Time View

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন: তোরেসের জাদুকরী গোলে দ্বিতীয় শিরোপা উল্লাস

Update Time : ১১:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | খেলাধুলা

লড়াইটা ছিল সেয়ানে সেয়ানে, তবে মাঠের খেলায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। ১-০ গোলের এই দুর্দান্ত জয়ে সব মিলিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল স্প্যানিশরা। টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে খেলতে আসা স্পেন ফাইনালে এতটাই গোছানো ফুটবল খেলেছে যে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পুরোটা সময় মাঠের কোণঠাসা করে রাখে তারা।

একনজরে ফাইনাল ম্যাচের সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
ফলাফলআর্জেন্টিনা ০ – ১ স্পেন
ম্যাচের ধরনবিশ্বকাপ ফাইনাল
ভেন্যুমেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র
স্পেনের গোলদাতাফেররান তোরেস (১০৬ মিনিট)
লাল কার্ড (আর্জেন্টিনা)এনজো ফার্নান্দেজ (৯০+৩ মিনিট)
স্পেনের অর্জনদ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা (২০১০ ও ২০২৬)

স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্য ও প্রথমার্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য চোখে পড়ার মতো ছিল। বলের দখলে শুরু থেকেই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে রীতিমতো চাপের মুখে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

  • ৫ম মিনিট: লামিন ইয়ামাল গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
  • ১২তম মিনিট: স্পেন প্রথম কর্নার পেলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সতর্কতায় আর্জেন্টিনা বিপদমুক্ত থাকে।

খেলার প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে স্প্যানিশরা আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে রাখলেও, গোলমুখের তালা খুলতে ব্যর্থ হয় তারা। স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে লিওনেল মেসিদের রীতিমতো খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে। বিপরীতে, লিওনেল স্কালোনির দলকে পুরো প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তা ও ফার্নান্দেজের লাল কার্ড

গোল আদায়ে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বেশ কিছু নিশ্চিত আক্রমণ প্রতিহত করে দলকে খেলায় টিকিয়ে রাখেন। এতে ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা পায় না স্প্যানিশরা। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলে তেমন কোনো শটই নিতে পারেনি।

তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩) পাউ কুবারসিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। তার বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় স্কালোনির দলের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের জয়সূচক গোল

নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। আর সেখানেই বাজিমাত করে স্পেন।

  • ১০৬তম মিনিট: বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বলটা দারুণ দক্ষতায় মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। বলটি অনেকটা ফাঁকায় পেয়ে যান বদলি নামা ফেররান তোরেস। এরপরই আগুনে এক শটে বল জালে জড়ান তিনি।

পিছিয়ে পড়ার পর ১০ জনের দল নিয়ে গোল শোধের আপ্রাণ চেষ্টা করলেও স্পেনের জমাট রক্ষণের সামনে সুবিধা করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। স্পেনও বাকি সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ১-০ গোলের জয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন।