০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে সততার দৃষ্টান্ত: খাল পুনঃখনন শেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১ কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

বেঙ্গল আই ডেস্ক | সারাদেশ (ভোলা)

সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ। একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা তিনি সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন।

নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রাক্কলনের তুলনায় কম ব্যয় হওয়ায় অবশিষ্ট এই অর্থ সরকারি বিধি অনুসরণ করে ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়েছে।

একনজরে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
প্রকল্পের নামঅতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)
অর্থবছর২০২৪–২৫
কাজের পরিধি৩.৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন (সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী ব্রিজ)
মোট বরাদ্দ২ কোটি ৬ লাখ টাকা
সাশ্রয় ও কোষাগারে ফেরত১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারোমানা আফরোজ (ইউএনও, চরফ্যাশন)

যেভাবে সাশ্রয় হলো বিপুল অঙ্কের অর্থ

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’–এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলার সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী ব্রিজ পর্যন্ত খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত কারিগরি মান ও সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থ ও খননের গভীরতা প্রাক্কলনের তুলনায় কম থাকায় কাজটি বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয় এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

ইউএনও রোমানা আফরোজের বক্তব্য

খাল পুনঃখনন ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলার ইউএনও রোমানা আফরোজ বলেন:

“দীর্ঘদিনের অবহেলায় খালটি ভরাট হয়ে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।”

সরকারি অর্থের অপচয় রোধ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের অংশ হিসেবে সাশ্রয় হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে।”

(তথ্যসূত্র: চরফ্যাশন, ভোলা প্রতিনিধি)

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
৫৫ Time View

চরফ্যাশনে সততার দৃষ্টান্ত: খাল পুনঃখনন শেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১ কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

Update Time : ০৯:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | সারাদেশ (ভোলা)

সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ। একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা তিনি সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন।

নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রাক্কলনের তুলনায় কম ব্যয় হওয়ায় অবশিষ্ট এই অর্থ সরকারি বিধি অনুসরণ করে ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়েছে।

একনজরে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
প্রকল্পের নামঅতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)
অর্থবছর২০২৪–২৫
কাজের পরিধি৩.৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন (সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী ব্রিজ)
মোট বরাদ্দ২ কোটি ৬ লাখ টাকা
সাশ্রয় ও কোষাগারে ফেরত১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারোমানা আফরোজ (ইউএনও, চরফ্যাশন)

যেভাবে সাশ্রয় হলো বিপুল অঙ্কের অর্থ

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’–এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলার সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী ব্রিজ পর্যন্ত খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত কারিগরি মান ও সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থ ও খননের গভীরতা প্রাক্কলনের তুলনায় কম থাকায় কাজটি বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয় এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

ইউএনও রোমানা আফরোজের বক্তব্য

খাল পুনঃখনন ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলার ইউএনও রোমানা আফরোজ বলেন:

“দীর্ঘদিনের অবহেলায় খালটি ভরাট হয়ে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।”

সরকারি অর্থের অপচয় রোধ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের অংশ হিসেবে সাশ্রয় হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে।”

(তথ্যসূত্র: চরফ্যাশন, ভোলা প্রতিনিধি)