চুক্তি না হলে আজই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি: ফাইল ছবি (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প)
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতি
হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। নিজ শর্তে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি রোববার (২৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ‘বড় চুক্তিতে’ স্বাক্ষর না করে, তবে আজই তেহরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।
একনজরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের বর্তমান চিত্র:
| বিষয় | বিবরণ |
| মার্কিন আল্টিমেটাম | ২৫ অক্টোবর (রোববার) চুক্তি স্বাক্ষর অথবা সামরিক হামলা |
| হুমকিদাতা | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |
| মূল বিরোধের কেন্দ্র | হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি |
| যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য | ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা |
| ইরানের অবস্থান | চুক্তির জন্য পাল্টা শর্তারোপ, যা যুক্তরাষ্ট্র মানতে নারাজ |
| পূর্ববর্তী হামলা | গত বছরের জুনে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোয় হামলা |
ফ্লোরিডা থেকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকি
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হুমকি দেন। ইরানে হামলার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (রোববার) সেটি হতে পারে।” তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়, তবে তারা এই হামলা থেকে বাঁচতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানিরাও চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”
স্থায়ী সমাধানের খোঁজে মার্কিন প্রশাসন
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানগুলো ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ওই হামলাটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলেন, “আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে, আর একমাত্র সে কারণেই আমি নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছি।” ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাকে হয়তো কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়তো তারা চুক্তি করবে। তবে সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক, আমরাই জিতব।”
বিশেষজ্ঞদের মত: সামরিক সমাধানে ক্ষীণ সম্ভাবনা
ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিলেও তেহরানও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়; তারাও সামরিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক সংঘাত শুরু হলে কোনো পক্ষের জন্যই সামরিক উপায়ে পুরোপুরি সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
বর্তমানে দুই দেশের বাহিনীই বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে নিয়মিত ছোটখাটো হামলার ধারায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কড়া অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালির’ ওপর নিজস্ব পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে স্থলভাগে বড় ধরনের কোনো আক্রমণ না হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চরম আল্টিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। যদি আজ সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায় অথবা ইরান এই প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়বে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ট্রাম্পের এই হুমকিকে ইরান কতটা গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে এবং তারা শেষ মুহূর্তে কোনো কূটনৈতিক ছাড় দেয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।



















