ইসরায়েল নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনায় বিরোধীদের চমক, ক্ষমতা হারাচ্ছেন কি নেতানিয়াহু?
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতি
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে (নেসেট) ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বিরোধীরা। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ব্লক আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে ৬৭টি আসনে জয়ী হতে পারে। তবে এখনো প্রায় ৫ লাখ অমীমাংসিত ভোটের গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফল নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েই গেছে।
একনজরে ইসরায়েল নির্বাচনের সর্বশেষ চিত্র:
| বিবরণ | তথ্য |
| মোট ভোট গণনা | ৮৫.৬ শতাংশ |
| সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার | ৬১টি আসন (মোট আসন ১২০) |
| নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট | ৫৩টি আসন (এর মধ্যে লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৬টি) |
| আইজেনকোটের বিরোধী জোট | ৪৮টি আসন (ইয়াশার পার্টি একাই পেয়েছে ২১টি) |
| আরব দলগুলোর প্রাপ্ত আসন | ১৯টি |
| বিরোধীদের সম্ভাব্য মোট আসন | ৬৭টি (৪৮+১৯) |
| গণনার অপেক্ষায় থাকা ভোট | প্রায় ৫ লাখ (সেনাসদস্য ও অন্যান্য) |
সরকার গঠনে বিরোধীদের বড় সম্ভাবনা ও আরব দলগুলোর সমীকরণ
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১টি আসনের প্রয়োজন। গণনাকৃত ভোটের হিসাবে একক দল হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সর্বোচ্চ ২৬টি আসন পেলেও জোটগতভাবে তারা ৫৩টিতে আটকে আছে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেয়েছে। আইজেনকোটের মূল জোটের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। এর সঙ্গে নির্বাচনে দারুণ চমক দেখানো আরব দলগুলোর ১৯টি আসন যোগ হলে বিরোধী শিবিরের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭-তে, যা ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে ৬টি বেশি। তবে এই দুই পক্ষের মধ্যে জোট গঠন পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আলোচনার ওপর।
নির্ধারক হতে পারে ৫ লাখ অমীমাংসিত ভোট
প্রাথমিক গণনায় বিরোধীরা এগিয়ে থাকলেও এখনই নেতানিয়াহুর বিদায় নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া সেনাসদস্যসহ অন্যান্য যোগ্য ভোটারদের প্রায় ৫ লাখ ভোট গণনার কাজ মধ্যরাতে শুরু হওয়ার কথা। এই ‘ডাবল-এনভেলপ’ বা খামের ভোটগুলো গণনা শেষে আসনসংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
ইসরায়েলের রাজনীতি বরাবরই চরম জোটনির্ভর এবং নাটকীয়তায় ভরপুর। ৮৫ শতাংশ ভোটের হিসাবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট ম্যাজিক ফিগার থেকে দূরে থাকলেও, এখনই তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া কঠিন। গাদি আইজেনকোটের সরকার গঠন করতে হলে আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, মধ্যরাতে গণনা হতে যাওয়া ৫ লাখ সেনাসদস্যের ভোট সাধারণত ডানপন্থি দলগুলোর দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকে। তাই ওই ৫ লাখ ভোট চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন, নাকি ইসরায়েল নতুন কোনো নেতৃত্বের যুগে প্রবেশ করবে।

















