০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ কোটি বছরের পুরোনো ডাইনোসরের ডিমের সন্ধান

ডিমগুলোর কোনো ক্ষতি না করে সেগুলোর ভেতরে কী আছে তা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা এখন ‘ভার্চুয়াল খনন’ করছেন

পর্তুগালের একটি সমুদ্র সৈকতে প্রায় ১৫ কোটি বছর পুরোনো ডাইনোসরের ডিম আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। লিসবন জেলার টোরেস ভেড্রাস এলাকায় পাওয়া এই আবিষ্কারটি জুরাসিক যুগের শেষের দিকের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, একটি ছোট বাসার ভেতর মোট ১০টি ডাইনোসরের ডিম পাওয়া গেছে, যা কোটি কোটি বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল। এই আবিষ্কারটি করেছেন গবেষক কার্লোস নাট্যারিও, যিনি টোরেস ভেড্রাস ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির প্যালিওবায়োলজি ও প্যালিওকোলজি গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, বেশিরভাগ ডিম থেকেই বহু আগেই বাচ্চা ফুটে বের হয়ে গিয়েছিল। তবে কিছু ডিমের খোসার ভেতরে এখনো ডাইনোসরের ভ্রূণ বা হাড়ের ক্ষুদ্র অংশ থাকতে পারে বলেও মনে করছেন গবেষকরা।

এই আবিষ্কারের বড় বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব হলো—ডিমগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সাধারণত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা বা মাটির পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের জীবাশ্ম নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এখানে পাওয়া ডিমগুলো তাদের মূল অবস্থানেই রয়ে গেছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমগুলো একটি দানাদার বেলেপাথরের স্তরের মধ্যে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক সময় নদীর তীরবর্তী নরম বালিতে ডাইনোসরটি ডিম পেড়েছিল। পরে সেই বালু ও পলল স্তরে স্তরে জমে ডিমগুলোকে রক্ষা করে।

ডিমগুলো খুঁজে পাওয়ার পর পুরো বেলেপাথরের ব্লকটি ল্যাবরেটরিতে নেওয়া হয়েছে। ডিমের ভেতরের গঠন জানার জন্য বিজ্ঞানীরা সিটি স্ক্যান প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ভার্চুয়াল খনন’ চালাচ্ছেন। এতে ডিমের ভেতরের একটি ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে।

গবেষকদের মতে, ডিমগুলো সম্ভবত কোনো মাংসাশী থেরাপড ডাইনোসরের। এ ধরনের ডাইনোসর সাধারণত দুই পায়ে হাঁটা শক্তিশালী শিকারি ছিল। ডিমগুলোর ব্যাস প্রায় ৫ সেন্টিমিটার।

পর্তুগালের সান্তা ক্রুজ সৈকতে পাওয়া এই ডিমগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর এক মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণা শেষ হলে হয়তো জানা যাবে ঠিক কোন প্রজাতির ডাইনোসর এই ডিমগুলো পেড়েছিল।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৩:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
৩৭৮ Time View

১৫ কোটি বছরের পুরোনো ডাইনোসরের ডিমের সন্ধান

Update Time : ০৩:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

পর্তুগালের একটি সমুদ্র সৈকতে প্রায় ১৫ কোটি বছর পুরোনো ডাইনোসরের ডিম আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। লিসবন জেলার টোরেস ভেড্রাস এলাকায় পাওয়া এই আবিষ্কারটি জুরাসিক যুগের শেষের দিকের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, একটি ছোট বাসার ভেতর মোট ১০টি ডাইনোসরের ডিম পাওয়া গেছে, যা কোটি কোটি বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল। এই আবিষ্কারটি করেছেন গবেষক কার্লোস নাট্যারিও, যিনি টোরেস ভেড্রাস ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির প্যালিওবায়োলজি ও প্যালিওকোলজি গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, বেশিরভাগ ডিম থেকেই বহু আগেই বাচ্চা ফুটে বের হয়ে গিয়েছিল। তবে কিছু ডিমের খোসার ভেতরে এখনো ডাইনোসরের ভ্রূণ বা হাড়ের ক্ষুদ্র অংশ থাকতে পারে বলেও মনে করছেন গবেষকরা।

এই আবিষ্কারের বড় বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব হলো—ডিমগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সাধারণত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা বা মাটির পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের জীবাশ্ম নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এখানে পাওয়া ডিমগুলো তাদের মূল অবস্থানেই রয়ে গেছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিমগুলো একটি দানাদার বেলেপাথরের স্তরের মধ্যে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক সময় নদীর তীরবর্তী নরম বালিতে ডাইনোসরটি ডিম পেড়েছিল। পরে সেই বালু ও পলল স্তরে স্তরে জমে ডিমগুলোকে রক্ষা করে।

ডিমগুলো খুঁজে পাওয়ার পর পুরো বেলেপাথরের ব্লকটি ল্যাবরেটরিতে নেওয়া হয়েছে। ডিমের ভেতরের গঠন জানার জন্য বিজ্ঞানীরা সিটি স্ক্যান প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ভার্চুয়াল খনন’ চালাচ্ছেন। এতে ডিমের ভেতরের একটি ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে।

গবেষকদের মতে, ডিমগুলো সম্ভবত কোনো মাংসাশী থেরাপড ডাইনোসরের। এ ধরনের ডাইনোসর সাধারণত দুই পায়ে হাঁটা শক্তিশালী শিকারি ছিল। ডিমগুলোর ব্যাস প্রায় ৫ সেন্টিমিটার।

পর্তুগালের সান্তা ক্রুজ সৈকতে পাওয়া এই ডিমগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর এক মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণা শেষ হলে হয়তো জানা যাবে ঠিক কোন প্রজাতির ডাইনোসর এই ডিমগুলো পেড়েছিল।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া