০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজ দেশে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা: সেই ৫ ইরানি নারী ফুটবলারকে আশ্রয় দিল অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রয়টার্স/এএফপি

নিজ দেশে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ইরান নারী জাতীয় ফুটবল দলের পাঁচ সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় ও মানবিক ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে ২০২৬ এএফসি নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এই ফুটবলাররা নিরাপত্তার শঙ্কায় দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

জাতীয় সংগীত বর্জন ও প্রাণনাশের শঙ্কা মূলত ম্যাচে ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই এই ফুটবলাররা কট্টরপন্থী ইরানি প্রশাসনের রোষানলে পড়েন। তাঁদের ওপর ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ এনে চরম শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা কুইন্সল্যান্ডে টুর্নামেন্ট চলাকালেই অস্ট্রেলিয়ার সরকারের কাছে আশ্রয়ের আবেদন করেন।

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এই সাহসী ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “এই লড়াকু নারীদের দুর্দশা অস্ট্রেলীয়দের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁরা এখানে নিরাপদ এবং আজ থেকে অস্ট্রেলিয়াকেই তাঁদের নিজেদের ঘর মনে করা উচিত।”

আশ্রয় পাওয়া ৫ ফুটবলার হলেন: ১. জহরা ঘানবারি (দলের অধিনায়ক) ২. ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ (মিডফিল্ডার) ৩. জহরা সারবালি আলিশাহ ৪. মোনা হামুদি ৫. আতেফেহ রামাজানিজাদেহ (ডিফেন্ডার)

সবার জন্য প্রস্তাব উন্মুক্ত অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, দলের বাকি সদস্যরা বর্তমানে গোল্ড কোস্টের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দলের অন্য কোনো সদস্য যদি নিরাপত্তার খাতিরে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যেতে চান, তবে তাঁদের জন্য প্রস্তাব উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

ইরানে চলমান দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নারী অধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ফুটবলারদের এই বিদ্রোহ বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
২৬ Time View

নিজ দেশে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা: সেই ৫ ইরানি নারী ফুটবলারকে আশ্রয় দিল অস্ট্রেলিয়া

Update Time : ০৫:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রয়টার্স/এএফপি

নিজ দেশে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ইরান নারী জাতীয় ফুটবল দলের পাঁচ সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় ও মানবিক ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে ২০২৬ এএফসি নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এই ফুটবলাররা নিরাপত্তার শঙ্কায় দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

জাতীয় সংগীত বর্জন ও প্রাণনাশের শঙ্কা মূলত ম্যাচে ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই এই ফুটবলাররা কট্টরপন্থী ইরানি প্রশাসনের রোষানলে পড়েন। তাঁদের ওপর ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ এনে চরম শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা কুইন্সল্যান্ডে টুর্নামেন্ট চলাকালেই অস্ট্রেলিয়ার সরকারের কাছে আশ্রয়ের আবেদন করেন।

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এই সাহসী ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “এই লড়াকু নারীদের দুর্দশা অস্ট্রেলীয়দের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁরা এখানে নিরাপদ এবং আজ থেকে অস্ট্রেলিয়াকেই তাঁদের নিজেদের ঘর মনে করা উচিত।”

আশ্রয় পাওয়া ৫ ফুটবলার হলেন: ১. জহরা ঘানবারি (দলের অধিনায়ক) ২. ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ (মিডফিল্ডার) ৩. জহরা সারবালি আলিশাহ ৪. মোনা হামুদি ৫. আতেফেহ রামাজানিজাদেহ (ডিফেন্ডার)

সবার জন্য প্রস্তাব উন্মুক্ত অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, দলের বাকি সদস্যরা বর্তমানে গোল্ড কোস্টের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দলের অন্য কোনো সদস্য যদি নিরাপত্তার খাতিরে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যেতে চান, তবে তাঁদের জন্য প্রস্তাব উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

ইরানে চলমান দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নারী অধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ফুটবলারদের এই বিদ্রোহ বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।