০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছরে বড় সংকটে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি

ইরানে যৌথভাবে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইল ও তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, যার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যও প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। জ্বালানি, পরিবহন খরচ, বিমান ভাড়া ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও ঊর্ধ্বমুখী। এমন অবস্থায় অনেক মার্কিন নাগরিক আশঙ্কা করছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের বেশি আমেরিকান মনে করেন এক দশকের মধ্যে দেশটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারে।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইউগভ প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন আগামী ১০ বছরে ‘পূর্ণ অর্থনৈতিক পতন’ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে ৩৮ শতাংশ এ ধারণা নাকচ করেছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার হুমকি বা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার চেয়ে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগই বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি, যেখানে ৫৩ শতাংশ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ২৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ৪৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন দেশটি ইতোমধ্যে মন্দার মধ্যে রয়েছে।

অর্থনীতি পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্ষমতা নিয়েও আস্থাহীনতা দেখা গেছে। ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। মাত্র ৩২ শতাংশ পূর্ণ আস্থা এবং ১৮ শতাংশ আংশিক আস্থা প্রকাশ করেছেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত ১,১১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর এই জরিপ চালানো হয়, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম কয়েক দফায় প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জাহাজ ভাড়া ও বিমান ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো ধীরগতির প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতি বার্ষিক ০.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩.৮ শতাংশ।

শ্রম বিভাগের তথ্য বলছে, গত মাসে ৯২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তবে মুদ্রাস্ফীতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। সংস্থাটির প্রধান জেরোম পাওয়েল বলেন, ইরান যুদ্ধ শ্রমবাজারে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আসলে ভবিষ্যতে কী হবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না।’

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ০৯:৪১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
২৬ Time View

১০ বছরে বড় সংকটে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি

Update Time : ০৯:৪১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরানে যৌথভাবে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইল ও তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, যার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যও প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। জ্বালানি, পরিবহন খরচ, বিমান ভাড়া ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও ঊর্ধ্বমুখী। এমন অবস্থায় অনেক মার্কিন নাগরিক আশঙ্কা করছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের বেশি আমেরিকান মনে করেন এক দশকের মধ্যে দেশটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারে।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইউগভ প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন আগামী ১০ বছরে ‘পূর্ণ অর্থনৈতিক পতন’ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে ৩৮ শতাংশ এ ধারণা নাকচ করেছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার হুমকি বা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার চেয়ে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগই বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি, যেখানে ৫৩ শতাংশ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ২৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ৪৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন দেশটি ইতোমধ্যে মন্দার মধ্যে রয়েছে।

অর্থনীতি পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্ষমতা নিয়েও আস্থাহীনতা দেখা গেছে। ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। মাত্র ৩২ শতাংশ পূর্ণ আস্থা এবং ১৮ শতাংশ আংশিক আস্থা প্রকাশ করেছেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত ১,১১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর এই জরিপ চালানো হয়, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম কয়েক দফায় প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জাহাজ ভাড়া ও বিমান ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো ধীরগতির প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতি বার্ষিক ০.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩.৮ শতাংশ।

শ্রম বিভাগের তথ্য বলছে, গত মাসে ৯২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তবে মুদ্রাস্ফীতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। সংস্থাটির প্রধান জেরোম পাওয়েল বলেন, ইরান যুদ্ধ শ্রমবাজারে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আসলে ভবিষ্যতে কী হবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না।’

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।