ইরানে হামলার হুমকি দিল সৌদি আরব
রিয়াদ লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ।
বুধবার (১৮ মার্চ) রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা বিশ্বাসের সম্পর্ক এখন সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। তিন সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে এটিই সৌদি আরবের সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া।
ইরানের অভিযোগ, একই দিনে ইসরাইল তাদের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার ঘোষণা দেয় এবং কাতার ও সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই হামলাকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বৈরী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরানের এই চাপ শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই ফিরে আসবে এবং প্রয়োজন হলে সৌদি আরব সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
রিয়াদে যখন তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠকে ছিলেন, তখনই শহরের আকাশে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ শোনা যায়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে, যার ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে একটি শোধনাগারের কাছে পড়ে।
যুদ্ধের শুরু থেকে সৌদি আরব একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়লেও বুধবারের এই সরাসরি হামলা রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
২০২৩ সালে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছিল। তবে বর্তমান উত্তেজনা সেই সম্পর্ককে আবারও সংকটে ফেলেছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, কিন্তু ইরান আগ্রাসন বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে বিশ্বাস পুনর্গঠন কঠিন হবে।
এই আঞ্চলিক উত্তেজনা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: রয়টার্স।





















