০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবে ট্রাম্পের বক্তব্য ইসরাইলের ভাবমূর্তিকে আরও জটিল করে তুলছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনায় জড়িয়েছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ক নিজেই সংবেদনশীল অবস্থায় ছিল। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইল সম্পর্কে মার্কিন জনগণের ইতিবাচক মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—এমনকি প্রথমবারের মতো অনেক মার্কিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুলনামূলক বেশি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ডানপন্থী মহলেও বিভাজন স্পষ্ট। কিছু প্রভাবশালী কণ্ঠ ক্রমেই এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করা হচ্ছে—কখনও সরাসরি, কখনও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে। এতে করে ইহুদিবিদ্বেষের আশঙ্কাও বাড়ছে।

যুদ্ধের বিষয়ে শুরু থেকেই সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে সংশয় ছিল। ফলে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই এর দায় ইসরাইলের ওপর চাপাচ্ছেন, আর সেই সুযোগে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বও ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু বক্তব্য, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে ইসরাইলকে এককভাবে দায়ী হিসেবে উপস্থাপন করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক পর্যায়ে যুক্তি দেন যে ইসরাইলের সম্ভাব্য পদক্ষেপের কারণে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আসন্ন হুমকি’ হয়ে উঠেছে। এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছে এমন ধারণা তৈরি করে যে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইসরাইলের সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। পরে প্রশাসন এই যুক্তি থেকে সরে আসে।

অন্যদিকে, ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়াতে ইসরাইল ও তার লবির ভূমিকা রয়েছে। তার বক্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এছাড়া ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কিছুই জানত না। যদিও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত আংশিকভাবে অবগত ছিল। এই ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্পষ্ট করে তোলে।

এই ঘটনাগুলো এমন একটি চিত্র তৈরি করছে, যেখানে মনে হচ্ছে ইসরাইল এককভাবে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কেবল প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। যদিও বাস্তবতা আরও জটিল, এই ধরনের বার্তা জনমতকে প্রভাবিত করছে।

সব মিলিয়ে, সুসংগত কূটনৈতিক বার্তার অভাব এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের অসামঞ্জস্যতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ককে আরও কঠিন অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব শুধু কূটনীতিতে নয়, বরং জনমত ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও পড়ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ০১:২৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
২৩ Time View

যেভাবে ট্রাম্পের বক্তব্য ইসরাইলের ভাবমূর্তিকে আরও জটিল করে তুলছে

Update Time : ০১:২৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনায় জড়িয়েছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ক নিজেই সংবেদনশীল অবস্থায় ছিল। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইল সম্পর্কে মার্কিন জনগণের ইতিবাচক মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—এমনকি প্রথমবারের মতো অনেক মার্কিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুলনামূলক বেশি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ডানপন্থী মহলেও বিভাজন স্পষ্ট। কিছু প্রভাবশালী কণ্ঠ ক্রমেই এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করা হচ্ছে—কখনও সরাসরি, কখনও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে। এতে করে ইহুদিবিদ্বেষের আশঙ্কাও বাড়ছে।

যুদ্ধের বিষয়ে শুরু থেকেই সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে সংশয় ছিল। ফলে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই এর দায় ইসরাইলের ওপর চাপাচ্ছেন, আর সেই সুযোগে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বও ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু বক্তব্য, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে ইসরাইলকে এককভাবে দায়ী হিসেবে উপস্থাপন করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক পর্যায়ে যুক্তি দেন যে ইসরাইলের সম্ভাব্য পদক্ষেপের কারণে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আসন্ন হুমকি’ হয়ে উঠেছে। এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছে এমন ধারণা তৈরি করে যে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইসরাইলের সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। পরে প্রশাসন এই যুক্তি থেকে সরে আসে।

অন্যদিকে, ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়াতে ইসরাইল ও তার লবির ভূমিকা রয়েছে। তার বক্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এছাড়া ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কিছুই জানত না। যদিও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত আংশিকভাবে অবগত ছিল। এই ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্পষ্ট করে তোলে।

এই ঘটনাগুলো এমন একটি চিত্র তৈরি করছে, যেখানে মনে হচ্ছে ইসরাইল এককভাবে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কেবল প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। যদিও বাস্তবতা আরও জটিল, এই ধরনের বার্তা জনমতকে প্রভাবিত করছে।

সব মিলিয়ে, সুসংগত কূটনৈতিক বার্তার অভাব এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের অসামঞ্জস্যতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ককে আরও কঠিন অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব শুধু কূটনীতিতে নয়, বরং জনমত ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও পড়ছে।