০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ ব্যবহারে জোর, ইরানে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ

ছবিঃ সংগৃহীত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লকহিড মার্টিনের নির্মিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।

এদিকে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার সতর্কতা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া।

যৌথ বাহিনীর এই হামলায় ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হাজার হাজার বাড়িঘর, স্কুল ও হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শুরুতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলেও এখন বেসামরিক এলাকাগুলো বেশি টার্গেট করা হচ্ছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক হামলায় তেহরানের শতবর্ষী পাস্তুর ইনস্টিটিউট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)-এর মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস । তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন আর কার্যকরভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। গত ১ মার্চের পর থেকে ইরানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ২০টিরও বেশি হামলার ঘটনা যাচাই করেছে সংস্থাটি।

শুক্রবার সকালে তেহরানের কাছে কারাজ শহরের একটি সেতুতে দুই দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রথম দফায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয় উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন।

অন্যদিকে, ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দাবি জানিয়ে বলেছে, তাদের শিল্প স্থাপনায় হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, আবুধাবির আমেরিকান স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ, বাহরাইনের আমেরিকান অ্যালুমিনিয়াম স্থাপনা এবং ইসরায়েলের রাফায়েল অস্ত্র কারখানা এসব হামলার মধ্যে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:০৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
৬০ Time View

যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ ব্যবহারে জোর, ইরানে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ

Update Time : ০৭:০৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লকহিড মার্টিনের নির্মিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।

এদিকে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার সতর্কতা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া।

যৌথ বাহিনীর এই হামলায় ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হাজার হাজার বাড়িঘর, স্কুল ও হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শুরুতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলেও এখন বেসামরিক এলাকাগুলো বেশি টার্গেট করা হচ্ছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক হামলায় তেহরানের শতবর্ষী পাস্তুর ইনস্টিটিউট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)-এর মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস । তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন আর কার্যকরভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। গত ১ মার্চের পর থেকে ইরানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ২০টিরও বেশি হামলার ঘটনা যাচাই করেছে সংস্থাটি।

শুক্রবার সকালে তেহরানের কাছে কারাজ শহরের একটি সেতুতে দুই দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রথম দফায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয় উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন।

অন্যদিকে, ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দাবি জানিয়ে বলেছে, তাদের শিল্প স্থাপনায় হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, আবুধাবির আমেরিকান স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ, বাহরাইনের আমেরিকান অ্যালুমিনিয়াম স্থাপনা এবং ইসরায়েলের রাফায়েল অস্ত্র কারখানা এসব হামলার মধ্যে রয়েছে।