০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাড়ি কিনতে নারীদের ৪০ লাখ টাকা ঋণ দেবে ইউসিবি

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) তাদের নারী ব্যাংকিং সেবা ‘আয়মা’র আওতায় নারী গ্রাহকদের জন্য গাড়ি কেনার ঋণ সুবিধা চালু করেছে। এ সেবার মাধ্যমে একজন নারী গ্রাহক সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা অথবা গাড়ির মূল্যের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ সময়সীমা পাঁচ বছর। এ সুবিধা পেতে হলে গ্রাহককে ইউসিবির ‘আয়মা’ নারী ব্যাংকিংয়ের সদস্য হতে হবে।

গাড়ি ঋণের জন্য আবেদনকারীকে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী বা স্বনিয়োজিত নারী হতে হবে। বেতনভুক্ত নারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা, চিকিৎসকের ৬০ হাজার টাকা, স্বনিয়োজিত পেশাজীবীর ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী নারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ৭৫ হাজার টাকা থাকতে হবে।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ

‘আয়মা’ সেবার আওতায় নারী উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৫০ লাখ টাকা। এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। আবেদনকারীকে কমপক্ষে এক বছর ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যবসা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন ও বিপণনসহ অন্যান্য বৈধ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এ ঋণ নেওয়া যাবে।

ঋণের জন্য বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। জামানতসহ ঋণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির নিবন্ধিত মর্টগেজ থাকতে হবে। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধায় সুদহার ৫ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে ১ শতাংশ ক্যাশব্যাক প্রণোদনাও রয়েছে।

বাড়ি তৈরিতে দুই কোটি টাকা ঋণ

‘আয়মা’ নারী ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা, নির্মাণ, সংস্কার কিংবা বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা পর্যন্ত হোম লোন পাওয়া যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) নারীরাও এ সুবিধা নিতে পারবেন। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২৫ বছর। আবেদনকারী বেতনভুক্ত, ব্যবসায়ী বা স্বনিয়োজিত হলে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বেতনভুক্ত নারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা এবং স্বনিয়োজিত, ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক বা এনআরবি নারীর ৬০ হাজার টাকা আয় থাকতে হবে।

পারসোনাল লোন ও কার্ড সুবিধা

এই সেবার আওতায় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া যাবে। বিয়ে, ভ্রমণ, শিক্ষা, সিএনজি কনভারশন, চিকিৎসা বা চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে পেশাভেদে ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া গ্রাহকদের জন্য রয়েছে মাস্টারকার্ড ক্ল্যাসিক, ভিসা ক্ল্যাসিক ও ভিসা সিগনেচার—এই তিন ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা। কেনাকাটা, কিস্তি সুবিধা, ভ্রমণ ও ডাইনিং ছাড়, রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্যাশব্যাক ও বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে।

৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যবসায়িক ঋণ

‘আয়মা দীপ্তি’ নামে কিস্তিভিত্তিক টার্ম ঋণ সেবায় নারী উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ এক থেকে পাঁচ বছর। জামানত ছাড়া ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুবিধা রয়েছে। সময়মতো পরিশোধ করলে ১ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ‘আয়মা জ্যোতি’ সেবার মাধ্যমে ওভারড্রাফট ঋণ সুবিধা রয়েছে, যার সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা। মেয়াদ এক বছর, যা নবায়নযোগ্য। কার্যকরী মূলধন ও কৃষি বিপণনসহ বিভিন্ন বৈধ ব্যবসায়িক কাজে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

আরও সেবা

নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে ‘স্বনির্ভর’ চলতি হিসাব, ‘স্বাবলম্বী ইজি অ্যাকাউন্ট’ এবং ‘আয়মা প্রত্যয়’ মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প। ন্যূনতম ১০ টাকা জমা দিয়ে হিসাব খোলার সুবিধাও রয়েছে। মাসিক সঞ্চয় প্রকল্পে ৫ বা ১০ বছর মেয়াদে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা জমা রাখা যাবে।

ইউসিবির ওয়েবসাইট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:২৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৯০ Time View

গাড়ি কিনতে নারীদের ৪০ লাখ টাকা ঋণ দেবে ইউসিবি

Update Time : ০৪:২৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) তাদের নারী ব্যাংকিং সেবা ‘আয়মা’র আওতায় নারী গ্রাহকদের জন্য গাড়ি কেনার ঋণ সুবিধা চালু করেছে। এ সেবার মাধ্যমে একজন নারী গ্রাহক সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা অথবা গাড়ির মূল্যের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ সময়সীমা পাঁচ বছর। এ সুবিধা পেতে হলে গ্রাহককে ইউসিবির ‘আয়মা’ নারী ব্যাংকিংয়ের সদস্য হতে হবে।

গাড়ি ঋণের জন্য আবেদনকারীকে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী বা স্বনিয়োজিত নারী হতে হবে। বেতনভুক্ত নারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা, চিকিৎসকের ৬০ হাজার টাকা, স্বনিয়োজিত পেশাজীবীর ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী নারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ৭৫ হাজার টাকা থাকতে হবে।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ

‘আয়মা’ সেবার আওতায় নারী উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৫০ লাখ টাকা। এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। আবেদনকারীকে কমপক্ষে এক বছর ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যবসা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন ও বিপণনসহ অন্যান্য বৈধ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এ ঋণ নেওয়া যাবে।

ঋণের জন্য বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। জামানতসহ ঋণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির নিবন্ধিত মর্টগেজ থাকতে হবে। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধায় সুদহার ৫ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে ১ শতাংশ ক্যাশব্যাক প্রণোদনাও রয়েছে।

বাড়ি তৈরিতে দুই কোটি টাকা ঋণ

‘আয়মা’ নারী ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা, নির্মাণ, সংস্কার কিংবা বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা পর্যন্ত হোম লোন পাওয়া যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) নারীরাও এ সুবিধা নিতে পারবেন। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২৫ বছর। আবেদনকারী বেতনভুক্ত, ব্যবসায়ী বা স্বনিয়োজিত হলে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বেতনভুক্ত নারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা এবং স্বনিয়োজিত, ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক বা এনআরবি নারীর ৬০ হাজার টাকা আয় থাকতে হবে।

পারসোনাল লোন ও কার্ড সুবিধা

এই সেবার আওতায় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া যাবে। বিয়ে, ভ্রমণ, শিক্ষা, সিএনজি কনভারশন, চিকিৎসা বা চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে পেশাভেদে ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া গ্রাহকদের জন্য রয়েছে মাস্টারকার্ড ক্ল্যাসিক, ভিসা ক্ল্যাসিক ও ভিসা সিগনেচার—এই তিন ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা। কেনাকাটা, কিস্তি সুবিধা, ভ্রমণ ও ডাইনিং ছাড়, রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্যাশব্যাক ও বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে।

৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যবসায়িক ঋণ

‘আয়মা দীপ্তি’ নামে কিস্তিভিত্তিক টার্ম ঋণ সেবায় নারী উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ এক থেকে পাঁচ বছর। জামানত ছাড়া ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুবিধা রয়েছে। সময়মতো পরিশোধ করলে ১ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ‘আয়মা জ্যোতি’ সেবার মাধ্যমে ওভারড্রাফট ঋণ সুবিধা রয়েছে, যার সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা। মেয়াদ এক বছর, যা নবায়নযোগ্য। কার্যকরী মূলধন ও কৃষি বিপণনসহ বিভিন্ন বৈধ ব্যবসায়িক কাজে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

আরও সেবা

নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে ‘স্বনির্ভর’ চলতি হিসাব, ‘স্বাবলম্বী ইজি অ্যাকাউন্ট’ এবং ‘আয়মা প্রত্যয়’ মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প। ন্যূনতম ১০ টাকা জমা দিয়ে হিসাব খোলার সুবিধাও রয়েছে। মাসিক সঞ্চয় প্রকল্পে ৫ বা ১০ বছর মেয়াদে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা জমা রাখা যাবে।

ইউসিবির ওয়েবসাইট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।