০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বজ্রপাত বেড়েছে, যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

বর্ষা এলেই বাড়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি। প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি এখন বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে একটি। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ে।

সম্প্রতি রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সচেতনতার ঘাটতির ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে।

বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত কোনো পাকা ভবন বা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। ঘরের ভেতরে থাকলে জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে হবে এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।

বাইরে থাকলে উঁচু গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা খোলা জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ বন্ধ গাড়ির ভেতর থাকাও তুলনামূলক নিরাপদ। জলাশয় যেমন নদী, হ্রদ বা সুইমিংপুল থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।

ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক, কারণ বজ্রপাত সাধারণত উঁচু স্থানে আঘাত হানে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি ধাতব বস্তু, ছাতা বা লোহার কোনো কিছু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ঝড় থেমে গেলেও অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ বজ্রপাতের ঝুঁকি তখনও পুরোপুরি শেষ হয় না।

বজ্রপাত কেবল প্রাণহানিই নয়, শরীরে গুরুতর আঘাত, হার্ট অ্যাটাক, পেশির ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাসসহ নানা জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ১২:০৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
৬৪ Time View

বজ্রপাত বেড়েছে, যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

Update Time : ১২:০৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বর্ষা এলেই বাড়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি। প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি এখন বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে একটি। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ে।

সম্প্রতি রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সচেতনতার ঘাটতির ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে।

বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত কোনো পাকা ভবন বা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। ঘরের ভেতরে থাকলে জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে হবে এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।

বাইরে থাকলে উঁচু গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা খোলা জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ বন্ধ গাড়ির ভেতর থাকাও তুলনামূলক নিরাপদ। জলাশয় যেমন নদী, হ্রদ বা সুইমিংপুল থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।

ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক, কারণ বজ্রপাত সাধারণত উঁচু স্থানে আঘাত হানে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি ধাতব বস্তু, ছাতা বা লোহার কোনো কিছু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ঝড় থেমে গেলেও অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ বজ্রপাতের ঝুঁকি তখনও পুরোপুরি শেষ হয় না।

বজ্রপাত কেবল প্রাণহানিই নয়, শরীরে গুরুতর আঘাত, হার্ট অ্যাটাক, পেশির ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাসসহ নানা জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।