ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় চুক্তি নয়, মিলল শুধু আশার বার্তা
বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেলেও বড় কোনো অর্থনৈতিক চুক্তি হয়নি। দুই পক্ষ বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন থেকেই আলোচনায় ছিল প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ট্রাম্পের সফরে ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এতে বোঝা যায়, এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক যানবাহন খাত ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।
বৈঠকের পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বলে উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউসও বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে সরাসরি সংঘর্ষে নিয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেন, চীন ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশার তুলনায় এটি খুব বড় অগ্রগতি নয়। বরং বৈঠকের পর বোয়িংয়ের শেয়ারের দামও কমে যায়।
দুই দেশ নতুন করে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে, যার মাধ্যমে শুল্ক যুদ্ধ এড়িয়ে বাণিজ্য সম্পর্ক পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উঠে এসেছে।
তবে সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে প্রযুক্তি ও তাইওয়ান। উন্নত চিপ ও এআই প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি বহাল রয়েছে। অন্যদিকে চীন এসব নীতিকে তাদের উন্নয়ন থামানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
বেইজিংয়ের আলোচনায় বড় কোনো চুক্তি না হলেও দুই পক্ষই ভবিষ্যৎ আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শি জিনপিং





















