০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলন সফল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: এবার কি ভোটের মাঠে নামবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে টানা এক মাসের গণ-আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো সরকার মেনে নেওয়ার পর এবার নতুন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে সরাসরি ভোটের মাঠে দেখা যাবে কি ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি), নাকি আড়ালে থেকেই কলকাঠি নাড়বে তারা? অতিসম্প্রতি এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন প্ল্যাটফর্মটির শীর্ষ নেতারা।

একনজরে সিজেপির আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ:

বিবরণতথ্য
সংগঠনের নামককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)
মূল ইস্যুনিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
আন্দোলনের ফলাফলশিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও দাবি আদায়
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণদের দাবি আদায়
মুখপাত্র/নেতৃবৃন্দআশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস, অভিজিৎ দীপকে
সমঝোতা বৈঠককনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া (জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে)

সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ নিয়ে ধোঁয়াশা

তরুণদের নেতৃত্বাধীন বিদ্রূপাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন সিজেপি এখনই পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিলেও, ভবিষ্যতের দরজা খোলা রেখেছে। এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভারতে কোনো বিষয়কেই কখনোই ‘না’ বলতে নেই বলে আমি মনে করি।”

টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের সাফল্য অর্জনের পর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত দুই মাস বাড়ির বাইরে থাকায় আপাতত তিনি বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নিতে ও শান্ত হতে চান এবং যা কিছু ঘটেছে তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে চান।

তৃণমূলে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য

সিজেপির অপর মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট করেছেন, এই মুহূর্তে সরাসরি রাজনীতিতে নামা তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের প্রাথমিক অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, “দেশে ইতিমধ্যেই সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রাজনৈতিক দল রয়েছে, কিন্তু তাদের কেউই তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না। আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল স্তরে এমনভাবে পৌঁছে দিতে চাই যাতে ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাই তরুণদের জন্য কাজ করতে বাধ্য হন।”

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও চূড়ান্ত সমঝোতা

সিজেপির লাগাতার আন্দোলনের মুখেই গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মোদির দীর্ঘ শাসনকালে কোনো গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করা দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া’-তে কেন্দ্রীয় বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আশুতোষ রাঙ্কা জানান, শনিবারের বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান।

মামলা প্রত্যাহার ও ‘দেশবিরোধী’ তকমার জবাব

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানান রাঙ্কা। খুব শিগগিরই সব আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের ওপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার সংক্রান্ত লিখিত চুক্তি সামনে আসবে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্রে উল্লেখিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ ইঙ্গিত প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার আর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘দেশবিরোধী’ বা ‘ভাইরাস’ হিসেবে দেখবে না। তিনি বলেন, “আমি পেছনের খুচরো বিতর্কে যেতে চাই না, তবে আমি আশা করি তারা যেন আর আমাদের দেশবিরোধী না বলেন। দিনশেষে আমার মনে হয়, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
৫৮ Time View

আন্দোলন সফল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: এবার কি ভোটের মাঠে নামবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?

Update Time : ০৫:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে টানা এক মাসের গণ-আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো সরকার মেনে নেওয়ার পর এবার নতুন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে সরাসরি ভোটের মাঠে দেখা যাবে কি ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি), নাকি আড়ালে থেকেই কলকাঠি নাড়বে তারা? অতিসম্প্রতি এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন প্ল্যাটফর্মটির শীর্ষ নেতারা।

একনজরে সিজেপির আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ:

বিবরণতথ্য
সংগঠনের নামককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)
মূল ইস্যুনিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
আন্দোলনের ফলাফলশিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও দাবি আদায়
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণদের দাবি আদায়
মুখপাত্র/নেতৃবৃন্দআশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস, অভিজিৎ দীপকে
সমঝোতা বৈঠককনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া (জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে)

সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ নিয়ে ধোঁয়াশা

তরুণদের নেতৃত্বাধীন বিদ্রূপাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন সিজেপি এখনই পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিলেও, ভবিষ্যতের দরজা খোলা রেখেছে। এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভারতে কোনো বিষয়কেই কখনোই ‘না’ বলতে নেই বলে আমি মনে করি।”

টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের সাফল্য অর্জনের পর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত দুই মাস বাড়ির বাইরে থাকায় আপাতত তিনি বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নিতে ও শান্ত হতে চান এবং যা কিছু ঘটেছে তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে চান।

তৃণমূলে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য

সিজেপির অপর মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট করেছেন, এই মুহূর্তে সরাসরি রাজনীতিতে নামা তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের প্রাথমিক অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, “দেশে ইতিমধ্যেই সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রাজনৈতিক দল রয়েছে, কিন্তু তাদের কেউই তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না। আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল স্তরে এমনভাবে পৌঁছে দিতে চাই যাতে ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাই তরুণদের জন্য কাজ করতে বাধ্য হন।”

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও চূড়ান্ত সমঝোতা

সিজেপির লাগাতার আন্দোলনের মুখেই গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মোদির দীর্ঘ শাসনকালে কোনো গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করা দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া’-তে কেন্দ্রীয় বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আশুতোষ রাঙ্কা জানান, শনিবারের বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান।

মামলা প্রত্যাহার ও ‘দেশবিরোধী’ তকমার জবাব

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানান রাঙ্কা। খুব শিগগিরই সব আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের ওপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার সংক্রান্ত লিখিত চুক্তি সামনে আসবে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্রে উল্লেখিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ ইঙ্গিত প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার আর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘দেশবিরোধী’ বা ‘ভাইরাস’ হিসেবে দেখবে না। তিনি বলেন, “আমি পেছনের খুচরো বিতর্কে যেতে চাই না, তবে আমি আশা করি তারা যেন আর আমাদের দেশবিরোধী না বলেন। দিনশেষে আমার মনে হয়, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।”