মোদির ‘গদি’ উল্টে দেওয়ার ডাক রাহুল গান্ধীর: ‘তেলাপোকাদের’ বিজয়ে অভিনন্দন
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
ভারতের তরুণদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি’র তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। তবে এখানেই না থেমে, দুর্নীতিগ্রস্ত মোদি সরকারের পতনের জন্য কৃষক-শ্রমিকসহ সমাজের অন্যান্য শ্রেণিকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
একনজরে রাহুল গান্ধীর বার্তা ও সিজেপির আন্দোলন প্রত্যাহার:
| বিবরণ | তথ্য |
| মূল বার্তা | দুর্নীতিগ্রস্ত মোদি সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার ডাক |
| সাক্ষাতের স্থান | ১০ জনপথ (রাহুল গান্ধীর বাসভবন) |
| বার্তা প্রদানকারী | রাহুল গান্ধী (শীর্ষ কংগ্রেস নেতা) |
| যাদের প্রতি আহ্বান | শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও নিপীড়িত জনতা |
| আন্দোলনের বর্তমান অবস্থা | দাবি আদায় শেষে সিজেপি কর্তৃক প্রত্যাহার (৩৬ দিন পর) |
| সরকারের মেনে নেওয়া দাবি | শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, মামলা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান |
শিক্ষার্থীদের প্রতি রাহুলের অভিনন্দন ও বার্তা
শনিবার (২৫ জুলাই) নিজ বাসভবন ১০ জনপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল গান্ধী। পরে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দেন তিনি।
গণতন্ত্র, সংবিধান ও নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমে লড়াই করার জন্য তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী লেখেন, “সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা গর্বিত। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় যে তরুণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে অনড় ছিলেন, তাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অভিনন্দন।” ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি সরকারের পতনের ডাক
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সরকারের দমন-পীড়নের কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। একই সঙ্গে ভয় না পেয়ে সাংবিধানিক উপায়ে নিজেদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র ও সরকারের হাতে নিপীড়িত প্রতিটি মানুষের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে রাহুল গান্ধী লেখেন:
“সত্যিকারের সাহস হলো সাংবিধানিক পন্থায় নিজের মর্যাদার জন্য অবিচল থাকা। এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। ভয় পাবেন না!”
দাবি আদায় শেষে ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করল সিজেপি
এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি ভারত সরকার শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলোও মেনে নেওয়ায় টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
সিজেপি জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যেসব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
- শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা পুলিশের সব মামলা তুলে নেওয়া।
- ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের কোনো ধরনের হয়রানি না করা।
- নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার পর সব বিক্ষোভকারীকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব।





















