জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান: চার দশক পর শীর্ষে বাংলাদেশ
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও কূটনীতি
চার দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতির আসনে বসল বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি। পরিষদের বিদায়ী ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক নতুন সভাপতি খলিলুর রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
একনজরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ও নতুন নেতৃত্ব:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| নতুন সভাপতি | ড. খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ) |
| অধিবেশন | জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন |
| শপথ গ্রহণের তারিখ | মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| বিদায়ী সভাপতি | আনালেনা বেয়ারবক (জার্মানি, ৮০তম অধিবেশন) |
| নির্বাচনের প্রেক্ষাপট | এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ |
| পূর্ববর্তী ইতিহাস | ১৯৮৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী (৪১তম অধিবেশন) |
চার দশক পর পুনরাবৃত্তি ও এক অনন্য সংযোগ
এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কূটনীতিক ও সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক সমাপতন হলো— ঠিক চল্লিশ বছর আগে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী যখন সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করেছিলেন, তরুণ খলিলুর রহমান সে সময়ে ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী। চার দশক পর সেই গুরুদায়িত্ব এবার তাঁর নিজের কাঁধেই অর্পিত হলো।
কূটনৈতিক পটভূমি ও সফল প্রচারণা
আঞ্চলিকভাবে ঘূর্ণায়মান নীতিতে এবার সভাপতি পদটি নির্ধারিত ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরুতে তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে এ পদের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকায় বাংলাদেশ সে সময় প্রার্থিতা স্থগিত রাখে। পরবর্তীতে ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ালে এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে নতুন প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হয়। মাত্র তিন মাসের গতিশীল ও পরিকল্পিত কূটনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে গত ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে এই অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশ।
ড. খলিলুর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন
পেশাদার কূটনীতিক ড. খলিলুর রহমান ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পলিসি ফোরামে নীতিনির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আগামী এক বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




















