১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমঞ্চে বিরল ইতিহাস: বাবা-মায়ের পর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আন্তর্জাতিক

বাবা ও মায়ের পর সন্তান হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিয়ে এক বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই পরিবারের তিন সদস্যের—বাবা, মা এবং সন্তান—রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার এমন নজির বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি এই অনন্য ইতিহাস রচনা করেন।

একনজরে জিয়া পরিবারের জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব:

রাষ্ট্র/সরকারপ্রধানজাতিসংঘে প্রথম ভাষণের সালসাধারণ পরিষদের অধিবেশন
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান১৯৮০ সাল১১তম বিশেষ অধিবেশন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া১৯৯৩ সাল৪৮তম অধিবেশন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান২০২৬ সাল৮১তম অধিবেশন

স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী ও মাতৃভাষায় ভাষণ

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণের শুরুতে তিনি কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এখানেই আমার পিতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে কথা বলেছিলেন। আজ আমিও আমার দেশ, জনগণ ও একটি শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।”

পারিবারিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেওয়া এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।

শহীদ জিয়ার বিশ্বমঞ্চে পদার্পণ

জাতিসংঘের সাথে জিয়া পরিবারের এই ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততার সূচনা হয়েছিল চার দশকেরও বেশি সময় আগে। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গভীরভাবে আলোকপাত করেছিলেন।

খালেদা জিয়ার ধারাবাহিক প্রতিনিধিত্ব

পিতার পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ২০০২ সালের শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহণ ও ভাষণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১০:৩৫:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ Time View

বিশ্বমঞ্চে বিরল ইতিহাস: বাবা-মায়ের পর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ

Update Time : ১০:৩৫:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আন্তর্জাতিক

বাবা ও মায়ের পর সন্তান হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিয়ে এক বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই পরিবারের তিন সদস্যের—বাবা, মা এবং সন্তান—রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার এমন নজির বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি এই অনন্য ইতিহাস রচনা করেন।

একনজরে জিয়া পরিবারের জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব:

রাষ্ট্র/সরকারপ্রধানজাতিসংঘে প্রথম ভাষণের সালসাধারণ পরিষদের অধিবেশন
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান১৯৮০ সাল১১তম বিশেষ অধিবেশন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া১৯৯৩ সাল৪৮তম অধিবেশন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান২০২৬ সাল৮১তম অধিবেশন

স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী ও মাতৃভাষায় ভাষণ

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণের শুরুতে তিনি কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এখানেই আমার পিতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে কথা বলেছিলেন। আজ আমিও আমার দেশ, জনগণ ও একটি শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।”

পারিবারিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেওয়া এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।

শহীদ জিয়ার বিশ্বমঞ্চে পদার্পণ

জাতিসংঘের সাথে জিয়া পরিবারের এই ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততার সূচনা হয়েছিল চার দশকেরও বেশি সময় আগে। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গভীরভাবে আলোকপাত করেছিলেন।

খালেদা জিয়ার ধারাবাহিক প্রতিনিধিত্ব

পিতার পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ২০০২ সালের শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহণ ও ভাষণ ছিল উল্লেখযোগ্য।