বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন: ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে বিশ্বনেতাদের সামনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ ভিশন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনায় নিজের এবং সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন তিনি।
একনজরে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল দিকগুলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| রাষ্ট্র মেরামতের কৌশল | ‘থ্রি আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন, রিকনস্ট্রাকশন) |
| তারুণ্য ও স্টার্টআপ | তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ |
| নারীর ক্ষমতায়ন | নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, স্নাতক পর্যন্ত বিনাবেতনে শিক্ষা |
| সামাজিক সুরক্ষা | ফ্যামিলি, ফার্মার্স, স্পোর্টস ও ই-হেলথ কার্ড সমন্বয়ে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ |
| এসডিজি ও ৩১ দফা | সরকারের ৩১ দফার ৭৩% এসডিজির সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ |
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ ও ‘থ্রি আর’ কৌশল
ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ দেড় দশকের গুম, খুন, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়েছে। একটি ক্ষতবিক্ষত রাষ্ট্রযন্ত্রকে পুনরায় মেরামত করে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে বর্তমান সরকার ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা সংক্ষেপে ‘থ্রি আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে।
তারুণ্যের শক্তি ও নারীর ক্ষমতায়ন
দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা কর্মক্ষম জনশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের স্টার্টআপ উদ্যোগগুলোকে সফল করতে চলতি অর্থবছরেই ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারীদের আর্থসামাজিক রূপান্তরে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ নগদ অর্থায়ন এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা
শুধু ভোটের অধিকার নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড চালু করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব কার্ডকে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রযুক্তি, এআই বিভাজন ও এলডিসি উত্তরণ
আগামী দিনের বিশ্বে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও বায়োটেকনোলজির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের ‘এআই বিভাজনে’ পরিণত না হয়, সেদিকে বিশ্ব সম্প্রদায়কে নজর দিতে হবে। প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসারে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালার দাবি জানান তিনি। এছাড়া, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের আসন্ন উত্তরণকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, যেখানে তরুণরা স্বপ্ন বুনবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে যাবে এবং প্রতিটি শিশু তার পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার নিয়ে বাঁচবে। আর এ কারণেই আমরা বলি— ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।”




















