০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে দেশে পৌঁছাল ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেলকোচ: রেলবহরে যুক্ত হবে কারিগরি পরীক্ষার পর

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও যোগাযোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেলকোচের প্রথম চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে দেশের রেলপথে যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

একনজরে নতুন ব্রডগেজ কোচ আমদানির চিত্র:

বিবরণতথ্য
মোট চুক্তিকৃত কোচ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানরাইটস লিমিটেড (RITES Limited), ভারত
বর্তমান চালান (১ম)১৮টি কোচ
কোচের ধরন ও সংখ্যা১১টি নন-এসি শোভন, ৩টি এসি চেয়ার, ২টি এসি স্লিপার ও ২টি পাওয়ার কার
দেশে প্রবেশের পথগেদে (ভারত) – দর্শনা (বাংলাদেশ) চেকপোস্ট
গন্তব্যস্থলসৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, নীলফামারী

ভারত থেকে দর্শনা হয়ে সৈয়দপুরের পথে

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম জানান, গত ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা এলাকা থেকে এই কোচগুলোর দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়। এরপর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট স্টেশন থেকে ছেড়ে গেদে চেকপোস্টের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শুক্রবার দুপুরে এগুলো দর্শনায় পৌঁছায়। দর্শনা স্টেশনে পৌঁছানোর পর কোচগুলোর প্রাথমিক পরিদর্শন, শুল্কসংক্রান্ত ছাড়পত্র (কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স) এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোচগুলোকে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নিয়ে যাওয়া হবে।

চুক্তির প্রেক্ষাপট ও আগামী চালান

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, দেশের রেলওয়ে ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ কেনার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের ২০ মে ভারতের রাইটস লিমিটেডের সঙ্গে একটি মেগা চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর চুক্তিটিতে কিছু সংশোধনী আনা হয়। সেই চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ৪ ক্যাটাগরির এই ১৮টি কোচ দেশে এসেছে। এর মধ্যে থাকা পাওয়ার কারগুলোতে ট্রেনের গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা এবং যাত্রীদের মালামাল বহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে ভারত থেকে আরও ১৮২টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ দেশে আসার কথা রয়েছে।

কারিগরি পরীক্ষার পর যুক্ত হবে যাত্রীবাহী বহরে

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পৌঁছানোর পর এই নতুন কোচগুলোর প্রাথমিক সংযোগ স্থাপন এবং কার্যক্ষমতা (Trail run) পরীক্ষা করা হবে। কারিগরি সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবং রেলওয়ের প্রকৌশলীদের সবুজ সংকেত পেলেই কোচগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

বাংলাদেশ রেলওয়েতে দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত ও আধুনিক কোচের তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমগুলোতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে রেলওয়েকে হিমশিম খেতে হয়। ভারত থেকে আসা এই নতুন ২০০টি ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে রেলবহরে যুক্ত হলে ট্রেনের আসন সংকট যেমন কমবে, তেমনি যাত্রীসেবার মানও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আরামদায়ক ও আধুনিক এসি স্লিপার ও চেয়ার কোচের কারণে রেলপথে ভ্রমণের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়বে, যা দিন শেষে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই চুক্তি একটি মাইলফলক।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৩১ Time View

ভারত থেকে দেশে পৌঁছাল ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেলকোচ: রেলবহরে যুক্ত হবে কারিগরি পরীক্ষার পর

Update Time : ০৭:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও যোগাযোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেলকোচের প্রথম চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে দেশের রেলপথে যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

একনজরে নতুন ব্রডগেজ কোচ আমদানির চিত্র:

বিবরণতথ্য
মোট চুক্তিকৃত কোচ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানরাইটস লিমিটেড (RITES Limited), ভারত
বর্তমান চালান (১ম)১৮টি কোচ
কোচের ধরন ও সংখ্যা১১টি নন-এসি শোভন, ৩টি এসি চেয়ার, ২টি এসি স্লিপার ও ২টি পাওয়ার কার
দেশে প্রবেশের পথগেদে (ভারত) – দর্শনা (বাংলাদেশ) চেকপোস্ট
গন্তব্যস্থলসৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, নীলফামারী

ভারত থেকে দর্শনা হয়ে সৈয়দপুরের পথে

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম জানান, গত ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা এলাকা থেকে এই কোচগুলোর দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়। এরপর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট স্টেশন থেকে ছেড়ে গেদে চেকপোস্টের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শুক্রবার দুপুরে এগুলো দর্শনায় পৌঁছায়। দর্শনা স্টেশনে পৌঁছানোর পর কোচগুলোর প্রাথমিক পরিদর্শন, শুল্কসংক্রান্ত ছাড়পত্র (কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স) এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোচগুলোকে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নিয়ে যাওয়া হবে।

চুক্তির প্রেক্ষাপট ও আগামী চালান

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, দেশের রেলওয়ে ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ কেনার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের ২০ মে ভারতের রাইটস লিমিটেডের সঙ্গে একটি মেগা চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর চুক্তিটিতে কিছু সংশোধনী আনা হয়। সেই চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ৪ ক্যাটাগরির এই ১৮টি কোচ দেশে এসেছে। এর মধ্যে থাকা পাওয়ার কারগুলোতে ট্রেনের গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা এবং যাত্রীদের মালামাল বহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে ভারত থেকে আরও ১৮২টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ দেশে আসার কথা রয়েছে।

কারিগরি পরীক্ষার পর যুক্ত হবে যাত্রীবাহী বহরে

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পৌঁছানোর পর এই নতুন কোচগুলোর প্রাথমিক সংযোগ স্থাপন এবং কার্যক্ষমতা (Trail run) পরীক্ষা করা হবে। কারিগরি সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবং রেলওয়ের প্রকৌশলীদের সবুজ সংকেত পেলেই কোচগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

বাংলাদেশ রেলওয়েতে দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত ও আধুনিক কোচের তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমগুলোতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে রেলওয়েকে হিমশিম খেতে হয়। ভারত থেকে আসা এই নতুন ২০০টি ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে রেলবহরে যুক্ত হলে ট্রেনের আসন সংকট যেমন কমবে, তেমনি যাত্রীসেবার মানও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আরামদায়ক ও আধুনিক এসি স্লিপার ও চেয়ার কোচের কারণে রেলপথে ভ্রমণের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়বে, যা দিন শেষে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই চুক্তি একটি মাইলফলক।