০৪:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে কিছু শর্ত: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | অর্থনীতি ও বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নতুন ঋণ সহায়তা পেতে হলে সংস্থটির দেওয়া কিছু অর্থনৈতিক শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এই শর্তাবলি এবং নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

একনজরে আইএমএফ-বাংলাদেশ বৈঠক:

বিষয়বিবরণ
বৈঠকের স্থানব্যাংকক, থাইল্যান্ড
অংশগ্রহণকারীঅর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আইএমএফের ডিএমডি নাইজেল ক্লার্ক
প্রধান আলোচ্যনতুন ঋণ সহায়তা ও অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি
আইএমএফের মূল পর্যবেক্ষণব্যাংকিং খাত সংস্কার, পুনঃমূলধনীকরণ ও ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি
অগ্রগতিআলোচনা ইতিবাচক; বেশ কিছু শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি সাধিত

শর্তাবলি ও সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য

অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আরও বিশদ আলোচনা চলবে। কিছু ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধানে পৌঁছানো হবে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের সার্বিক শৃঙ্খলা, ট্যাক্স-জিডিপি (Tax-GDP) অনুপাত বৃদ্ধি, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইএমএফের কিছু সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারও নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে অনেকগুলো কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফের সন্তুষ্টি

সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফের কোনো সংশয় রয়েছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সংস্থাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছিল এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থা চলছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি দেখিয়েছে, আইএমএফ তাকে ইতিবাচক হিসেবেই মূল্যায়ন করছে।

বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব

অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার কেবল আইএমএফের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে বাংলাদেশ। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য অর্থনৈতিক কৌশল থাকার কারণেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

আইএমএফের শর্তপূরণ প্রক্রিয়া আপাতদৃষ্টিতে কঠোর মনে হলেও রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফেরাতে এই সংস্কারগুলো দেশের অর্থনীতির জন্যই অপরিহার্য। বিশেষ করে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে। তবে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি না করে কীভাবে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়, সেই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩৯ Time View

আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে কিছু শর্ত: অর্থমন্ত্রী

Update Time : ০৪:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | অর্থনীতি ও বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নতুন ঋণ সহায়তা পেতে হলে সংস্থটির দেওয়া কিছু অর্থনৈতিক শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এই শর্তাবলি এবং নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

একনজরে আইএমএফ-বাংলাদেশ বৈঠক:

বিষয়বিবরণ
বৈঠকের স্থানব্যাংকক, থাইল্যান্ড
অংশগ্রহণকারীঅর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আইএমএফের ডিএমডি নাইজেল ক্লার্ক
প্রধান আলোচ্যনতুন ঋণ সহায়তা ও অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি
আইএমএফের মূল পর্যবেক্ষণব্যাংকিং খাত সংস্কার, পুনঃমূলধনীকরণ ও ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি
অগ্রগতিআলোচনা ইতিবাচক; বেশ কিছু শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি সাধিত

শর্তাবলি ও সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য

অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আরও বিশদ আলোচনা চলবে। কিছু ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধানে পৌঁছানো হবে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের সার্বিক শৃঙ্খলা, ট্যাক্স-জিডিপি (Tax-GDP) অনুপাত বৃদ্ধি, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইএমএফের কিছু সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারও নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে অনেকগুলো কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফের সন্তুষ্টি

সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফের কোনো সংশয় রয়েছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সংস্থাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছিল এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থা চলছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি দেখিয়েছে, আইএমএফ তাকে ইতিবাচক হিসেবেই মূল্যায়ন করছে।

বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব

অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার কেবল আইএমএফের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে বাংলাদেশ। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য অর্থনৈতিক কৌশল থাকার কারণেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

আইএমএফের শর্তপূরণ প্রক্রিয়া আপাতদৃষ্টিতে কঠোর মনে হলেও রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফেরাতে এই সংস্কারগুলো দেশের অর্থনীতির জন্যই অপরিহার্য। বিশেষ করে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে। তবে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি না করে কীভাবে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়, সেই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।