০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক: ঢাকায় কার্যালয় খোলার প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও অর্থনীতি

জাপান সফরের তৃতীয় দিনে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, আইসিটি এবং অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি ঢাকায় জেবিআইসির একটি স্থায়ী কার্যালয় খোলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন।

একনজরে জেবিআইসি-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক:

বিবরণতথ্য
বৈঠকের সময়২৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩০ (জাপানের স্থানীয় সময়)
বাংলাদেশের নেতৃত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জেবিআইসি (JBIC)-এর নেতৃত্বআমাকাওয়া কাজুহিকো (গভর্নর, জেবিআইসি)
প্রধান আলোচ্য বিষয়জ্বালানি, আইসিটি ও মেগা অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
কৌশলগত প্রস্তাববাংলাদেশে জেবিআইসির (JBIC) নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন
জেবিআইসির সাড়াপ্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য জেবিআইসির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জেবিআইসি গভর্নরকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন আইনি বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকায় জেবিআইসির কার্যালয় খোলার প্রস্তাব

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ঢাকায় জেবিআইসির (JBIC) কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব। মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সরাসরি সমন্বয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অনুরোধ জানানো হয়। জেবিআইসির গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো বাংলাদেশের এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ

জাপানের অন্যতম বৃহৎ এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে একঝাঁক শীর্ষ নীতিনির্ধারক উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (JBIC) হলো বিশ্বব্যাপী মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের জন্য জাপানের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। ঢাকায় যদি সত্যিই জেবিআইসির একটি কার্যালয় স্থাপিত হয়, তবে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে। এর ফলে মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন প্রাপ্তি, কারিগরি সহায়তা এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা (Red Tape) বহুলাংশে কমে আসবে। বর্তমান সরকারের আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা যে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলছে, জেবিআইসি গভর্নরের এই ইতিবাচক আশ্বাস তারই একটি বড় প্রমাণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:৪১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
২৮ Time View

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক: ঢাকায় কার্যালয় খোলার প্রস্তাব

Update Time : ১০:৪১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও অর্থনীতি

জাপান সফরের তৃতীয় দিনে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, আইসিটি এবং অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি ঢাকায় জেবিআইসির একটি স্থায়ী কার্যালয় খোলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন।

একনজরে জেবিআইসি-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক:

বিবরণতথ্য
বৈঠকের সময়২৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩০ (জাপানের স্থানীয় সময়)
বাংলাদেশের নেতৃত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জেবিআইসি (JBIC)-এর নেতৃত্বআমাকাওয়া কাজুহিকো (গভর্নর, জেবিআইসি)
প্রধান আলোচ্য বিষয়জ্বালানি, আইসিটি ও মেগা অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
কৌশলগত প্রস্তাববাংলাদেশে জেবিআইসির (JBIC) নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন
জেবিআইসির সাড়াপ্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য জেবিআইসির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জেবিআইসি গভর্নরকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন আইনি বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকায় জেবিআইসির কার্যালয় খোলার প্রস্তাব

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ঢাকায় জেবিআইসির (JBIC) কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব। মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সরাসরি সমন্বয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অনুরোধ জানানো হয়। জেবিআইসির গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো বাংলাদেশের এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ

জাপানের অন্যতম বৃহৎ এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে একঝাঁক শীর্ষ নীতিনির্ধারক উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (JBIC) হলো বিশ্বব্যাপী মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের জন্য জাপানের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। ঢাকায় যদি সত্যিই জেবিআইসির একটি কার্যালয় স্থাপিত হয়, তবে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে। এর ফলে মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন প্রাপ্তি, কারিগরি সহায়তা এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা (Red Tape) বহুলাংশে কমে আসবে। বর্তমান সরকারের আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা যে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলছে, জেবিআইসি গভর্নরের এই ইতিবাচক আশ্বাস তারই একটি বড় প্রমাণ।