ঢাকা শহরকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর করে গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও প্রবাস
রাজধানী ঢাকাকে জাপানের টোকিও শহরের মতো সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে সরকারের সংস্কার ভাবনা তুলে ধরেন।
একনজরে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভার মূল বিষয়বস্তু:
| বিবরণ | তথ্য |
| অনুষ্ঠান | প্রবাসী বাংলাদেশিদের (বাংলাদেশ কমিউনিটি) মতবিনিময় সভা |
| স্থান ও সময় | হোটেল নিউ ওতানি, টোকিও; ২৮ অক্টোবর ২০২৬ (সন্ধ্যা) |
| প্রধানমন্ত্রীর মূল ভিশন | ঢাকা শহরকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করা |
| সংস্কারের মূল দর্শন | প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ) |
| রাজনৈতিক বার্তা | ভোটের চেয়ে ভালো কাজের জন্য সমর্থন ও ঐক্যের আহ্বান |
| উপস্থিত বিশেষ অতিথি | ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ |
টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকার স্বপ্ন
টোকিও শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “টোকিওর রাস্তাঘাটে কোনো ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। অথচ ঢাকায় চারদিকে আবর্জনা জমে থাকে, এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।” তিনি ঢাকাসহ সারা দেশে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা, বায়ুদূষণ কমানো এবং ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর উদ্যোগের কথা প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঢাকাকে যদি টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করা যায়, তবে সেটিই হবে দেশের জন্য একটি বড় ‘সংস্কার’।
প্রান্তিক মানুষের জন্য সংস্কার ও প্রবাসীদের সমর্থন
রাজনৈতিক সংস্কারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “সংস্কার বলতে আমি সেই সংস্কারকেই বুঝি, যার সুবিধা দেশের প্রান্তিক মানুষটিও পায়। কিছু সংস্কারে সীমিত মানুষ উপকৃত হয়, কিন্তু আমার অগ্রাধিকার হলো সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী।” প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বলছি না যে বিএনপিকে ভোট দেন। কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তাহলে সমর্থন দেন, যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।” এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা করতালির মাধ্যমে তাঁর এই বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে— সরকারের এমন সংস্কার কার্যক্রমগুলো যাতে বিএনপি বাস্তবায়ন করতে না পারে, সেজন্য পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি প্রবাসীদের কাছে ব্যবসা সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
টোকিও প্রবাসীদের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য মূলত একটি দ্বৈত বার্তা বহন করে। একদিকে তিনি যেমন বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার একটি আধুনিক নগর-ভিশন তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে আগামী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে ‘প্রান্তিক মানুষের জন্য সংস্কার’-এর ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন। সরাসরি ভোট না চেয়ে কেবল ভালো কাজের জন্য প্রবাসীদের কাছে সমর্থন চাওয়ার কৌশলটি জনমনে একটি ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা দেয়। তবে, ঢাকার মতো একটি অপরিকল্পিত, অতিজনবহুল ও যানজটপূর্ণ শহরকে টোকিওর মতো আধুনিক রূপ দেওয়া স্রেফ সদিচ্ছার ব্যাপার নয়; এর জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন।
















