০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন খল অভিনেতা শিবা শানু

ছবি: সংগৃহীত (চৌধুরী মাজহার আলী ওরফে শিবা শানু)

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও বিনোদন

ঢাকাই সিনেমার পরিচিত খল অভিনেতা ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি চৌধুরী মাজহার আলী ওরফে শিবা শানুকে বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রাজনীতি ও সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘদিনের সক্রিয় এই অভিনেতাকে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় (গ্রেড-২) এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

একনজরে শিবা শানুর নতুন নিয়োগ ও শর্তাবলি:

বিবরণতথ্য
নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিচৌধুরী মাজহার আলী (শিবা শানু)
নতুন পদবিব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট
পদমর্যাদা ও বেতনক্রমঅতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা (গ্রেড-২)
নিয়োগের মেয়াদযোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ১ বছর (চুক্তিভিত্তিক)
নিয়োগের প্রধান শর্তঅন্য যেকোনো পেশা বা সংগঠনের সাথে কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে
বর্তমান পদ (যা ছাড়তে হবে)সভাপতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি
সিনেমায় অভিষেক১৯৯৮ সালে (‘মাতৃভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে)

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও শর্তাবলি

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০০১’-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তেই তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ছাড়তে হবে শিল্পী সমিতির সভাপতি পদ

শিবা শানু বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিয়োগের কঠোর শর্ত অনুযায়ী, শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হিসেবে সরকারি এই গ্রেড-২ পদে যোগদান করতে হলে তাকে অবশ্যই শিল্পী সমিতির সভাপতির পদটি ছাড়তে হবে। তবে এই বিষয়ে অভিনেতা এখনো তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি।

রুপালি পর্দার ভিলেন থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে

ঢালিউডে খল অভিনেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত শিবা শানু। ১৯৯৮ সালে ‘মাতৃভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অঙ্গনেও বেশ সক্রিয়।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টে একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পীকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি দেশের শিল্পীদের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ তিনি শিল্পীদের অভাব-অভিযোগ ও সংকটগুলো কাছ থেকে দেখেছেন। তবে একজন অভিনেতাকে সরাসরি ‘অতিরিক্ত সচিব’ (গ্রেড-২) পদমর্যাদায় বসানোর এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সরকার প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের আদর্শিক মিত্রদের শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, শিল্পী সমিতির সম্মানজনক সভাপতির চেয়ার ছেড়ে শিবা শানু আমলাতান্ত্রিক এই সরকারি দায়িত্বকে বেছে নেন কি না।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
৫৩ Time View

অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন খল অভিনেতা শিবা শানু

Update Time : ১০:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত (চৌধুরী মাজহার আলী ওরফে শিবা শানু)

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও বিনোদন

ঢাকাই সিনেমার পরিচিত খল অভিনেতা ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি চৌধুরী মাজহার আলী ওরফে শিবা শানুকে বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রাজনীতি ও সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘদিনের সক্রিয় এই অভিনেতাকে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় (গ্রেড-২) এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

একনজরে শিবা শানুর নতুন নিয়োগ ও শর্তাবলি:

বিবরণতথ্য
নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিচৌধুরী মাজহার আলী (শিবা শানু)
নতুন পদবিব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট
পদমর্যাদা ও বেতনক্রমঅতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা (গ্রেড-২)
নিয়োগের মেয়াদযোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ১ বছর (চুক্তিভিত্তিক)
নিয়োগের প্রধান শর্তঅন্য যেকোনো পেশা বা সংগঠনের সাথে কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে
বর্তমান পদ (যা ছাড়তে হবে)সভাপতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি
সিনেমায় অভিষেক১৯৯৮ সালে (‘মাতৃভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে)

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও শর্তাবলি

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০০১’-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তেই তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ছাড়তে হবে শিল্পী সমিতির সভাপতি পদ

শিবা শানু বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিয়োগের কঠোর শর্ত অনুযায়ী, শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হিসেবে সরকারি এই গ্রেড-২ পদে যোগদান করতে হলে তাকে অবশ্যই শিল্পী সমিতির সভাপতির পদটি ছাড়তে হবে। তবে এই বিষয়ে অভিনেতা এখনো তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি।

রুপালি পর্দার ভিলেন থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে

ঢালিউডে খল অভিনেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত শিবা শানু। ১৯৯৮ সালে ‘মাতৃভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অঙ্গনেও বেশ সক্রিয়।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টে একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পীকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি দেশের শিল্পীদের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ তিনি শিল্পীদের অভাব-অভিযোগ ও সংকটগুলো কাছ থেকে দেখেছেন। তবে একজন অভিনেতাকে সরাসরি ‘অতিরিক্ত সচিব’ (গ্রেড-২) পদমর্যাদায় বসানোর এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সরকার প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের আদর্শিক মিত্রদের শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, শিল্পী সমিতির সম্মানজনক সভাপতির চেয়ার ছেড়ে শিবা শানু আমলাতান্ত্রিক এই সরকারি দায়িত্বকে বেছে নেন কি না।