চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির, বাক্সবন্দি যন্ত্রপাতি নিয়ে ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত (পুরোনো ছবি)
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও স্বাস্থ্য
দেশের হাসপাতালগুলোতে চরম মাত্রায় পৌঁছানো চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ডায়ালাইসিস মেশিন কেনা হলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলো মাসের পর মাস বাক্সবন্দি পড়ে থাকে।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সোসাইটি অব অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ’-এর বার্ষিক বৈজ্ঞানিক কনফারেন্স ও এজিএম-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একনজরে রাষ্ট্রপতির বার্তার মূল বিষয়বস্তু:
| বিবরণ | তথ্য |
| অনুষ্ঠান | সোসাইটি অব অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস-এর বৈজ্ঞানিক কনফারেন্স ও এজিএম |
| স্থান ও সময় | হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা; ১ নভেম্বর (সন্ধ্যা) |
| প্রধান সংকট | চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের অভাব |
| যন্ত্রপাতি অব্যবস্থাপনা | ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন সরঞ্জাম কেনার আগে দক্ষ জনবল নিশ্চিতের তাগিদ |
| গ্রামীণ চিকিৎসাসেবা | জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করার নির্দেশ |
| বিশেষ উপস্থিতি | স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন |
১৬ হাজার কোটি টাকার সরঞ্জাম ও বাক্সবন্দি যন্ত্রপাতির আক্ষেপ
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় একটি কাঠামোগত ত্রুটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অতীতেও এমন অনেক দামি যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, যেগুলো চালানোর মতো জনবল না থাকায় বিভিন্ন জায়গায় বাক্সবন্দি অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, “আপনারা যন্ত্রপাতি নিয়ে আসবেন, কিন্তু সেগুলো পরিচালনার জন্য লোক থাকবে না— এমন হলে চলবে না।” চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি তা পরিচালনার জন্য অতি দ্রুত টেকনিশিয়ান ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।
গ্রামীণ চিকিৎসায় অবহেলা ও মানবিক হওয়ার আহ্বান
গ্রাম ও প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার করুণ চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রামের মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতেও অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। তিনি চিকিৎসকদেরকে রোগীদের প্রতি আরও মানবিক ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে একটি উপযুক্ত ও সর্বজনীন জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীনের সভাপতিত্বে ও সদস্য-সচিব অধ্যাপক ডা. হাসান জাফরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ড্যাব-এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
বেঙ্গল আই বিশ্লেষণ:
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত ও রূঢ় বাস্তবতার একটি নিখুঁত প্রতিফলন। স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও দামি যন্ত্রপাতি কেনার দিকে যতটা জোর দেওয়া হয়, সেই অনুপাতে দক্ষ জনবল নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণে বরাবরই চরম উদাসীনতা দেখা যায়। ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন সরঞ্জাম কেনার আগে বাক্সবন্দি পড়ে থাকা ডায়ালাইসিস মেশিনগুলোর উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রপতি মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই একটি কড়া নীতিগত বার্তা দিয়েছেন। যন্ত্রপাতি কেনার পেছনে যে কমিশন-বাণিজ্য থাকে, জনবল নিয়োগে তা থাকে না বলেই কি টেকনিশিয়ান নিয়োগ আটকে থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং দ্রুত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগের মাধ্যমেই কেবল ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করা সম্ভব।










