ইরানে এবারের মার্কিন হামলা ২০২৫ সালের চেয়ে ভিন্ন যেভাবে
গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান হামলা চালিয়েছিল। তবে শনিবার শুরু হওয়া নতুন মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের ধরন ও লক্ষ্য আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত এবং কৌশলগতভাবে ভিন্ন।
২০২৫ সালের ১২ দিনের অভিযানে মূল ফোকাস ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। নাতাঞ্জ ও ফোরদোর মতো স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করেই তখনকার সামরিক পদক্ষেপ পরিচালিত হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের বসন্তে শুরু হওয়া নতুন অভিযানে লক্ষ্যবস্তু শুধু পারমাণবিক অবকাঠামো নয়— বরং ইরানের সামগ্রিক সামরিক ও শাসন কাঠামো।
আল জাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভল তেহরান থেকে জানিয়েছেন, এবারের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ও বিধ্বংসী। শনিবার সকালের তীব্র হামলায় রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো কেঁপে ওঠে।
পাস্তুর জেলা লক্ষ্যবস্তু
রিপোর্ট অনুযায়ী, এবারের হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল তেহরানের অভিজাত পাস্তুর জেলা— যা ইরানের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বাসভবন অবস্থিত।

২০২৫ সালে যেখানে কৌশল ছিল পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করা, সেখানে এবারের লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ও ড্রোন সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং শাসনব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়া।
সারা দেশে বিস্তৃত অভিযান
এবারের হামলা কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম— ইরানের অন্তত ১০টির বেশি শহরে একযোগে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক ঘাঁটি, যোগাযোগব্যবস্থা ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কৌশলে প্রথম ধাপে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা— বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি— দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরপর পরবর্তী রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ সুগম করা হতে পারে।
আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
মোহাম্মদ ভলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ এবারের হামলা সরাসরি ক্ষমতার কেন্দ্র ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।





















